ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও দীর্ঘ যানজটের নগরী ঢাকায় এক শ্রেণির নাগরিকদের নিয়ম লঙ্ঘন করায় যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিয়ম কিংবা আইন বলে কিছু রয়েছে তা যেন তারা ভুলেই গেছে। আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে হরহামেশাই মোটরসাইকেল নিয়ে ফুটপাতের ওপর দিয়ে চলাচল করছে এ শ্রেণির মানুষেরা।
আর ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। অনেক সময় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কলাবাগান মোড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে ফুটপাত দিয়ে যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি কোম্পানির চাকরিজীবী রতন কুমার। ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যানজটের কারণে একটু দ্রুত পথচলার জন্য বাইক (মোটরসাইকেল) কিনেছি। এত টাকা দিয়ে বাইক কিনে কেউ যানজটে বসে থাকতে চায় না। যে যেভাবে পারে বাইক নিয়ে ছুটছে। তাই আমিও একটু তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য আইন ভাঙলাম।’
তিনি বলেন, ‘আর শুধু আমি কেন, পুলিশ ও আপনারা (সাংবাদিক) আইন ভাঙেন না? আপনারাও তো ফুটপাত দিয়ে চালান। কিন্তু আমরা সাধারণ বাইক চালকেরা চালালেই দোষ।’
ফুটপাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করা নাগরিকদের অধিকার। আর সেই অধিকার বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অধিকাংশ সময়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেখা যায় নীরব ভূমিকায়।
শাহাবাগ এলাকায় এক নারী পথাচারী ফারজানা জানান, রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় ফুটপাতে চলাচল করলে মোটরসাইকেলের আতঙ্কে থাকতে হয়। রাস্তার গাড়ি না ফুটপাতে মোটরসাইকেল হর্ন দেয় বোঝা যায় না। আর যতক্ষণ মোটরসাইকেলকে সাইড না দেওয়া হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত হর্ন বাজিয়েই যায়। বিষয়টি খুবই বিরক্তিকর।
ফুটপাতে মোটরসাইকেল বন্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘যানজটের এই শহরে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করা সম্ভব নয়। কাকে নিষেধ করব। পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী সবাই নিয়ম অমান্য করছে।’
ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে এ বিষয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে দায়িত্বপালনকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট আশিষ বলেন, ‘চোখের সামনে পড়লে আমরা সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিচ্ছি। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। সময় মতো অফিস যাওয়া কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ট্রাফিকের জরিমানা তাদের কাছে কোনো ব্যাপার না।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি না হলে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করা যাবে না। শহরের রাস্তা জুড়ে ট্রাফিক পুলিশ থাকে না। তবে সিগন্যালের কাছাকাছি কোনো মোটরসাইকেল চালক ফুটপাতে ওঠে না মামলার ভয়ে।’
রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধে বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. হাবিবুল গণির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১২ সালের ৫ মার্চ পৃথক রিট আবেদনের শুনানি শেষে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) নির্দেশ দেন।
এমএনজে





