পবিত্র ঈদুল আযাহা সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুরেও শুরু জম-জমাট কোরবানির পশুর বাজার। তবে অন্যান্য বছরের মত এবারও কাহারোল, বীরগঞ্জ, বোঁচাগঞ্জ, পার্বতীপুর, চিরিরবন্দরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় বাজারগুলোতে প্রতিদিনই উঠছে বিপুল পরিমাণে গরু।

তবে এবারে পশুর দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতার। দাম বেশি হওয়ার কারনে গরু কিনতে না পেরে অনেককে খালি হাতে বাড়ী ফিরে যেতে হচ্ছে। গতকাল শনিবার কাহারোল হাটে তরিকুল ইসলাম নামের এক মধ্য আয়ের কৃষক জানালেন, 'এবারে কাহারোলে ব্যপক গরু উঠেছে কিন্তু দাম একটু বেশি তাই পছন্দের গরুটি কিনতে পারলামনা, সাধ্যমত একটা গরু কিনতে হল।'

একই বাজরে মুকুন্দপুর থেকে আসা উসমান আলী নামের এক ব্যক্তি জানালেন, 'দাম বেশি থাকার কারনে আজ গরু কিনতে পারলামনা। সামনে সোমবার বোঁচাগঞ্জে গিয়ে কিনব।'

আবার বিক্রেতাদের দাবী কয়েকদিন আগের তুলনায় গরুর দাম কিছুটা কমে গেছে। তাদের ধারনা ভারত থেকে ব্যপক গরু ঢোকার কারনে গরুর দাম কমে গেছে। কাহারোল উপজেলার রসূলপুর থেকে আসা আইনুল ইসলাম নামের এক গরু বিক্রেতা জানালেন, 'গত হাটে আমার একটি গরুর দাম ৪৪ হাজার টাকা দর করেছি। কিন্তু আজ সেই গরু ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি করলাম।'

পার্বতীপুর উপজেলার ডিগ্রী কলেজের মাঠে লাগানো হয়েছে বিশেষ ঈদের পশুর হাট সেখানে ব্যপক পশু ক্রয় বিক্রয় লক্ষ করা গেছে। এখানে ক্রেতা বিক্রেতাদের একই অভিযোগ। মকবুল ইসলাম নামের এক গরু ব্যবসায়ী জানালেন, কিছুদিন পূর্বে তিনি কিছু গরু কিনে রেখেছিলেন, কিন্তু ভারতে থেকে গরু আসার কারনে লাভ করতে পারলামনা। কোন ররকমে আসল টাকাটি উঠে এসেছে।

এদিকে ছাগল ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়। কোরবানীর ক্রেতা ছাড়াও অনেক ব্যাপারী গরু-ছাগল ক্রয় করে ট্রাক যোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়।

ঈদের পশুর হাট হওয়ায় বাজারগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানা গেছে। কাহারোল উপজেলা এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানালেন, গরুর হাটে আনসার, ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশ পর্যাপ্ত পরিমাণ রাখা হয়েছে। সোনালী ব্যাংক গরু হাটে তাদের বুথ খুলেছে জাল টাকা সানাক্ত করার জন্য। প্রাণি সম্পদ বিভাগ পশু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। ফলে ক্রেতা ছাড়াও ব্যবসায়ীরা তাদের পছন্দনীয় গরু ছাগল কিনতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছে বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।

এআই