আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে সকল প্রকার তামাকজাত পণ্যের উপর কাযকর ও বর্ধিত হারে কর আরোপের দাবি জানিয়েছেন তামাক বিরোধী বিভিন্ন সংগঠন।
আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে কেমন তামাক-কর চাই শীষক প্রাক বাজেট সাংবাদ সম্মেলন সংগঠগুলো এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা বলেন, করারোপের ফলে তামাকের প্রকৃত মূল্য ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে নিম্ম ও মাঝারি আয়ের লোকজনের মধ্যে তামাকের ব্যবহার ৮ শতাংশ হ্রাস পাবে। যা জনস্বাস্থ্যের নিরিখে প্রশংসনীয় সূচক হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু বাংলাদেশে তামাক কর বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কাযকর করারোপের অভাবে এখানে তামাকপণ্যের প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধি পায়নি। উল্টো সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে তামাকের সস্তা থেকে সস্তাতর হয়েছে। তবে তামাকজনিত মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করলে তা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩ শতাংশ।
২০১৬ সালে ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স এর তথ্যমতে বক্তারা জানিয়েছে যে ২০০৮-০৯ সালে ৫০০০ শলাকা বিড়ি কিনতে যেখানে মাথাপিছু জিডিপি’র ১ দশমিক ৮২ শতাংশ ব্যয় হতো সেখানে ২০১৩-১৪ সালে একই পরিমাণ বিড়ি কিনতে ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ অর্থাৎ বিড়ির প্রকৃত মূল্য কমে গেছে।
বক্তরা আরো বলেন, বাংলাদেশে একই হারে সুনির্দিষ্ট সিগারেট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করা হয় যার পরিমাণ খুচরা মূল্যের ৭০ শতাংশ এবং বিদ্যমান একাধিক মূল্যস্তরভিত্তিক এড-ভ্যালোরেম কর কাঠামো প্রথা বাতিল করা হলে প্রায় ৭০ লক্ষ প্রাপ্ত বয়স্ক ধূমপায়ী সিগারেট সেবন ছেড়ে দিবে এবং ৭০ লক্ষেরও বেশি তরুণ তা থেকে বিরত থাকবে। ৬০ লক্ষ লোক মৃত্যু থেকে রেহাই পাবে। এবং সরকারের অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ কোটি রাজস্ব আয় করবে।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন প্রজ্ঞা ও এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এ্যলায়েন্স উদ্যোগে তামাকবিরোধী সংগঠন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, অধীর ফাউন্ডেশন, এইড ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, বিসিসিপি, এসিডি, ইপসা, সীমান্তিক, উবিনীগ, ইসি বাংলাদেশ, ডব্লিউবিবি টাস্ট্র, বাংলাদেশ এন্টি টোব্যাকো এ্যালায়েন্স, নাটাব ও প্রত্যাশা।
তামাক-মহামারী মোকাবেলা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা লক্ষ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটে তামাকজাত পণ্যে কাযকর ও বর্ধিত হারে করারোপের দাবিতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও পরামর্শ সমূহ তুলে ধরা হলো:
১. সিগারেটের করারোপের জন্য ব্যবহৃত মূল্যস্তর প্রথা তুলে দিতে হবে। এই মূল্যস্তর প্রথা কর ফাঁকির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ একটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানি মধ্যম স্তরের সিগারেট নিম্মস্তর হিসেবে দেখিয়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। করারোপ স্তরভিত্তিক প্রথা চালু থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
২. সব ধরনের সিগারেটের উপর একই হারে অর্থাৎ খুচরা মূল্যের ৭০ শতাংশ সমপরিমাণ সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করতে হবে।
৩. বিড়ির উপর খুচরা মূল্যের ৪০ শতাংশ সমপরিমাণ সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করতে হবে।
৪. জর্দা এবং গুলের উপর খুচরা মূল্যের ৭০ শতাংশ সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করতে হবে।
৫. আয় এবং সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধির জন্য তামাকপণ্যের মূল্য বাৎসরিক সমন্বয় করতে হবে।
৬. খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহতকরণে তামাকের ওপর বিদ্যমান রফতানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা।
৭. তামাকের চুল্লি প্রতি বাৎসরিক ৫ হাজার টাকা লাইসেন্সিং ফি আরোপ করা।
৮. তামাকের কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, কর সংগ্রহ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কর ফাঁকি রোধকল্পে তামাকেপণ্যের শুল্কমুক্ত বিক্রয় প্রথা তুলে দিয়ে করারোপ করা।
৯. তামাকপণ্যের উপর ২ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা। এখঅন থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় তামাক নিয়ন্ত্রক এবং অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় ব্যয় করা।
ইআর/এমবি





