আন্দোলনরত পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হওয়ার কারণে শুক্রবার সকাল থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলার ২১ রুটে পরিবহণ ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
সোহাগ পরিবহণের চালকের নিঃশর্ত মুক্তি ও মধুখালী থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি)প্রত্যাহারের দাবিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার থেকে শুধু ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও শুক্রবার থেকে ১০ জেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে পরিবহণ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যৌথসভা শেষে শুক্রবার থেকে খুলনা বিভাগে এই অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘটের কথা জানান বাংলাদেশ পরিবহণ সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু।
গত তিন দিনের বাস ধর্মঘটের কারণে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বেনাপোল স্থল বন্দর চেকপোস্টে কয়েকশ’ ভারত ফেরত যাত্রী আটকা পড়েছেন। এসব যাত্রীদের যাদের সামর্থ্য আছে তারা ইজিবাইক, ভ্যান রিকশা নিয়ে যশোরে এসে তারপর ট্রেনে করে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে যাবার চেষ্টা করছেন। সব চেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের।
বাংলাদেশ পরিবহণ সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু জানান, পরিবহণ ডাকাতি মামলায় মধুখালী থানার ওসি সোহাগ পরিবহণের চালক আইনালকে আটক করেন। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বার বার বলার পরও মধুখালী থানার ওসি শ্রমিক নেতাদের কোনো কথা আমলে নেননি। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। আর এই ধর্মঘটের কারণে হঠাৎ করেই ঢাকার সঙ্গে সকল পরিবহণ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে হয়রানি আর ভোগান্তির কবলে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রাতে শ্রমিক সমিতির সভাপতি জানান, সোহাগ পরিবহণের চালক আইনালের মুক্তি এবং মধুখালী থানার ওসি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের এই ধর্মঘট চলবে।
শুক্রবার থেকে এই ১৮টি রুটে পরিবহণ ধর্মঘট শুরু হওয়ায় এ অঞ্চলের গোটা যোগাযোগ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। তাই শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে আটক সোহাগ পরিবহণ চালকের মুক্তি দাবি করেছেন।
কেএইচ





