আগামি ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলার নব-সৃষ্ট গুইমারা উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন। গুইমারা উপজেলার প্রথম নির্বাচনে জয়ের স্বাধ পেতে মরিয়া চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের ৯ প্রার্থী। প্রতিদ্বন্ধিতার মাঠে দলীয় নেতা-কর্মী এবং জনগণের সমর্থন আদায়ে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন প্রার্থীরা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঠে ময়দানে এখন সর্বত্র নির্বাচনের আমেজ। ভোটাররাও উপভোগ করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণা।

গুইমারা উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনে দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দুই তরুন নেতা গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু মেমং মারমা ও গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: ইউসুফ। এ দু’নেতার মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও রাজনীতির মাঠে তারা দুজনই ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত। দলের ভিতরে বাহিরে ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা আর ক্লিন ইমেজকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তৎপর এই তরুন দুই নেতা।

অন্যদিকে নির্বাচনে জয়ের স্বাধ পেতে মরিয়া আর এক তরুণ চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান উশেপ্রু মারমা। তিনি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত প্রার্থী বলে জনশ্রুতি রয়েছে। যদিও তিনি তা অস্বিকার করে নিজে কখনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেননা বলে দাবী করেছেন।

উশেপ্রু মারমার বিরুদ্ধে রয়েছে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ। গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগের দাবি সিন্দুকছড়ি ও হাফছড়ির বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষ্যে নির্বাচনি পোস্টার লাগাতে গিয়ে উশেপ্রু মারমার সমর্থকদের বাধার সম্মুখিন হতে হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উশেপ্রু মারমা।

কে হচ্ছেন গুইমারা উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান এমনই আলোচনা চলছে গুইমারা উপজেলার সর্বত্র। ভোটাররা এটিকে ব্যাখ্যা করছেন যে যার মত করে। গুইমারা উপজেলার কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গুইমারা উপজেলা নির্বাচনে ক্লিন ইমজের নেতা খ্যাত মেমং-ইউসুফের বাইরে বিকল্প ভাবতে চাননা তারা।

অন্যদিকে মোট ভোটারের দুই তৃতীয়াংশই উপজাতীয় ভোটার হওয়ায় নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে উপজাতীয় ভোট বড় ফ্যাক্ট বলে মনে করেন অনেকেই। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি— দুই দলের প্রার্থীরই জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাহাড়ি-বাঙালি সমীকরণের সুযোগে বিএনপি প্রার্থী খানিকটা এগিয়ে যেতে পারে। কেননা, এই দুই প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পাহাড়ি ও বিএনপির প্রার্থী বাঙালি। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তৃতীয় প্রার্থীও পাহাড়ি। ফলে দুই পাহাড়ি প্রার্থীর মধ্যেকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একমাত্র বাঙালি প্রার্থী হিসেবে সুবিধা পেয়ে যেতে পারেন বিএনপি প্রার্থী।

আওয়ামীলীগ প্রার্থী মেমং মারমা বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। এবার তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তিনি কিছু এলাকায় একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তার কর্মীদের গণসংযোগে বাধা ও পোষ্টার ছিড়ে ফেলার অভিযোগ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে জনগণ প্রতিহত করবে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুইমারাকে উপজেলা ঘোষনা করেছেন, কাজেই সকল উপজেলা উপেক্ষায় গুইমারা উপজেলার জনগণ আওয়ামীলীগের প্রার্থীকেই ভোট দেবে।

বিএনপির প্রার্থী মো: ইউসুফ বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। জনদাবির সমর্থন থেকেই জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিবে। গণসংযোগকালে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। অবাধ ও সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজয়ে তিনি শতভাগ আশাবাদী। ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী উশেপ্রু মারমা নিজেকে জনগণের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবী করে বলেন, বিগত ইউপি নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীরা ব্যাপক সংখ্যক বহিরাগত এনে ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জনগণ প্রতিহত করেছে।

এবার সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বহিরাগতরা আসতে পারে এমন শংকা প্রকাশ করে বলেন, তাহলে জনগণ প্রতিহত করবে। অন্য দলের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা ও পোষ্টার ছিড়ে ফেলার অভিযোগ প্রত্যাখান করে উশেপ্রু মারমা বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। গুইমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রির্টানিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এটি এম কাউছার হোসেন বলেন, আঞ্চলিক দলের প্রভাবে কিছু কিছু এলাকায় অন্য প্রার্থীর গণসংযোগ ও প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে সেখানে টহল জোড়দারা করা হয়। পাশাপাশি যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তার জন্য সহকারী রির্টানিং অফিসারের নেতৃত্বে একটি আইন-শৃঙ্খলা সেল গঠন করা হয়েছে।

গুইমারা উপজেলার সচেতন মহলের দাবী যে যাই বলুক, বিগত দিনের কর্মকান্ড বিবেচনায় গুইমারা উপজেলা নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীদেরই নির্বাচিত করবেন তারা। উল্লেখ্য, আগামী ৬ মার্চ গুইমারা উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪, ৩৬৭ জন, ও মহিলা ভোটার ১৩,৬২৫ জন।

 

আবু বকর ছিদ্দিক/জেড