মুক্তিবাহিনীর উপ-অধিনায়ক এ কে খন্দকার টালমাটাল হয়ে গেছেন। কোনো এক মহলের চাপে তিনি তার বই ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ এসব মন্তব্য লিখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম।

রবিবার চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৫৪৮ পরিবারের মাঝে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধনকালে সিদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৫ সনের পর মোশতাক সাহেবের সঙ্গে শপথ, এইচ এম এরশাদের সরকারের মন্ত্রীত্ব, আওয়ামী লীগের আমলে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেন। তখনও তিনি এমন তথ্য বলেননি। এখন তিনি নতুন রুপে আবিষ্কার হলেন কেন? আমি দেশ স্বাধীনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্বও আমার। আর তা রক্ষা করা কঠিন। খন্দকার সাহেবের এই লেখা আর্ন্তজাতিক চক্রান্ত। মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত সাক্ষী আমরা। তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করবেন না। যুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতা হেড কোয়ার্টারে ছিলেন। আমরা রক্ত ঝরিয়েছি, পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি।

তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, এ কে খন্দকার সাহেব এই তথ্য কোথায়, কিভাবে পেলেন দ্রুত জবাব দেন? আপনার সঙ্গে জীবনে চলারপথে ২শ থেকে আড়াইশ বার বৈঠকে বসেছি। কখনও এ সব শুনিনি। নিশ্চয় টালমাটাল হয়ে এ সব লিখেছেন। আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকারের মন্ত্রীত্বে রাখলে তিনি এ সব বিভ্রান্তি ছড়াতেন না। কেউ না কেউ তাকে প্ররোচণা দিয়েছেন। অন্য কোনো ইচ্ছায় তিনি জাতির পিতাকে ছোট করার জন্য এটা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ কে খন্দকারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। তিনি সব সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। এই সরকারের কাছ থেকেও সুবিধা নিয়ে তারপর তিনি এই বই লেখেন। এই বই লেখা নিয়ে তার সঙ্গে আমি দুই-তিন বার বসেছি। তখন তিনি কখনও এমন কথা বলেননি।

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ