সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হয়নি, আপাতত তাঁদের আগের বেতনকাঠামো অনুসারেই বেতন দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন হিসাব চূড়ান্ত হলে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ একসঙ্গে সমন্বয় করে পরিশোধ করা হবে।
জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে এখনো বেশ কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এখনো নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সবার বর্ধিত বেতন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নতুন বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে বিভিন্ন গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়ম, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধা নির্ধারণে একাধিক অসংগতি দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যার কারণে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী কার কত বেতন হবে, তা চূড়ান্ত করতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এর পাশাপাশি সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++-এর বিভিন্ন জটিলতাও বেতন নির্ধারণ ও পরিশোধের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে।
জটিলতা নিরসনে অর্থসচিবের কাছে আবেদন
এসব অসংগতি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের জন্য অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
তবে এখন পর্যন্ত এসব আবেদনের উল্লেখযোগ্য কোনো সমাধান হয়নি। একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমস্যা ১ নভেম্বরের আগে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়নে অভিজ্ঞতার ঘাটতি
অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন তৈরি এবং তা বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও জানাশোনার ঘাটতির কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন কাঠামো কার্যকর করতে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব অসংগতি ও জটিলতা দেখা দিয়েছে, সেগুলো সমাধানে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে।
এনএইচ











