বগুড়ার শেরপুর উপজেলা হাসপাতালে হামলাকারীদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

প্রয়োজনে জরুরি বিভাগসহ আন্তঃবিভাগের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছে তারা। সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে এ হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে হাসপাতালে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সানি (২০) ও তার বাবা সাজু মিয়া (৪৮) ছাড়াও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোখলেছুর রহমান বাদি হয়ে শেরপুর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়াও হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এ হামলার প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি পালন করা হয়। এরফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোখলেছুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে এ ঘটনায় জড়িতদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনো আসামিদের গ্রেফতার করেনি।

এ অবস্থায় তিনিসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। আসামিরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

প্রসঙ্গত, রোগীদের খাবার সরবরাহের ঠিকাদারি কাজ না পেয়ে গত বুধবার দুপুরে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সানীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী হাসপাতালে হামলা চালায়।

এসময় হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মামুনুর রশীদ ও হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে মারপিট করে আহত করা হয়।

এসএইচ