নিজের বুদ্ধিমত্তা আর সাহসিকতার জেরে পাচারকারীদের হাত থেকে ফিরলেন এক বাংলাদেশী নারী। বাংলাদেশ থেকে পাচারকারীদের খপ্পড়ে পড়েও নিজের বুদ্ধিবলে ভারতে এসে দালাল চক্রের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করলেন এক বাংলাদেশী নারি।
ভারতের দালালরা তাকে পতিতা পল্লিতে বিক্রি করে দেবে বুঝতে পেরে দালালকে ফাঁকি দিয়ে দৌড়ে থানায় আশ্রয় নিয়ে নিজেকে বাঁচালেন বাংলাদেশের খুলনা জেলার প্রত্যান্ত গ্রাম পানিগাফি এলাকার বাসিন্দা আফরোজা বিবি।
তিনি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ইংরেজ বাজার থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, গত রোববার খুলনার প্রত্যান্ত গ্রাম পানিগাফি এলাকার বাসিন্দা আফরোজা বিবিকে চোরাইপথে সীমান্তপার করে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মালদার জেলার ইংরেজ বাজার থানার মৌটুসীগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রির চক্রান্ত করছিল বাংলাদেশি দালার ইউনূস এবং ভারতের দালালরা। মুম্বাইয়ের নিষিদ্ধপল্লিতে ভারতীয় রুপীতে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার কথা হয় আফরোজাকে। প্রথমে আফরোজা বুঝতে না পারলেও পরে তিনি যখন বুঝতে পারেন আন্তর্জাতিক নারী পাচারচক্রের খপ্পরে পড়েছেন, তখন তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করার ভান করেন। এরপর নিজে এই খপ্পর থেকে বাঁচার বুদ্ধি বের করেন। আফরাজোকে রাখা হয়েছিল মালদা এলাকার স্থানীয় একটি দোকানে। মঙ্গলবার সকালে সেখানে থেকে সুযোগ বুঝে আফরোজা প্রথমে কৌশলে পালিয়ে স্থানীয় এক বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে পুরো ঘটনা খুলে বলেন এবং পরে নিজেই সারাসরি ইংরেজ বাজার থানায় গিয়ে দালালের খপ্পরের ঘটনা জানান।
পুলিশ পরে মেডিক্যাল চেকআপ করার পর আফরিজাকে মহকুমা কোর্টে পাঠায়। সেখান থেকে আফরোজাকে একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। ভারত সরকার সম্প্রতি নিয়ম করেছে নারী ও শিশু পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে যেসব বাংলাদেশি নারী ও শিশু ভারতে ধরা পড়বে তাদের গ্রেফতার না দেখিয়ে হেফাজত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। আফরোজার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম মানা হবে বলে মালদা জেলা পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে।
আফরোজা জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে মনমালিন্য হওয়া স্বামী তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এখন তিনি বাবার বাড়িতে থাকেন। সাত মাস বয়সের তার একটি পুত্র সন্তান আছে তার। তিনি অভাবের তাড়নায় স্থানীয় ইউনূস নামের এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে কাজের সন্ধান করেছিলেন। আর সেই ইউনূসই তার এই অভাবের সুযোগ নিয়েছে।
এএইচ





