বরিশাল বিমানবন্দর থানার বিতর্কিত এসআই রেহান উদ্দিনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু সাঈদ।

নিরীহ প্রবাসীকে আটক করে ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে এসআই রেহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে। পরে ১১ হাজার টাকা দিয়ে মুক্তি পান ওই প্রবাসী।

মঙ্গলবার বিকালে এ-সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগপত্র পুলিশের সদর দপ্তর থেকে শুরু করে বরিশালের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় পাঠান নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ জিয়া সড়কের বাসিন্দা মো. মোকছেদ।

ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযোগকারী মোকছেদ ও তার প্রবাসী বন্ধু মো. সালাউদ্দিন গত ১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের আল্লারদান হোটেলে খাবার খেতে বসেন।

এর আগে মোকছেদ তার প্রবাসী ভগ্নিপতির পাঠানো ২০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। হোটেলে খাবার খেয়ে তারা বের হলে সেখানে উপস্থিত হন বিমানবন্দর থানার এসআই রেহান উদ্দিন।

রেহান মোটরসাইকেল থেকে নেমে মোকছেদ ও তার প্রবাসী বন্ধুর জ্যাকেটের কলার ধরেন। এ অবস্থায় তাদের নাম-ঠিকানা জানতে চান। একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে একটি প্যাকেট বের করেন রেহান।

যে প্যাকেটে কিছু ট্যাবলেট দেখা যায়। এরপর ট্যাবলেটের বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কিছু জানেন না বলে জানালে তাদের ওই এলাকার ধানসিড়ি হোটেলের পেছনে নিয়ে যায় এসআই রেহান। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

একপর্যায় তার হুমকি-ধমকিতে আতঙ্কিত মোকছেদ ১১ হাজার টাকা দিয়ে তার প্রবাসী বন্ধুকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

এ অভিযোগের ব্যাপারে বিমানবন্দর থানার দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ কমিশনার আজাদ রহমান জানান, অভিযোগ পেয়ে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে এসআই রেহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাতে নগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু সাঈদ জানান, বিকেলে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই এসআই রেহান উদ্দিনকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হচ্ছে।

এমকে