ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সহস্রাধিক রোগী।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আগুন লাগার পর সরকারি হাসপাতালটিতে থাকা প্রায় সব রোগীকে সরকারি-বেরসরকারি নানা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত না হলেও স্থানান্তরের সময় মারা গেছে গুরুতর অসুস্থ একটি শিশু।

৪তলা এই হাসপাতাল ভবনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন লাগার পর প্রায় ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় তা নেভায় অগ্নিনির্বাপক বাহিনী। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।

আগুন নেভানোর পর রাতেই হাসপাতালের কার্যক্রম সীমিত আকারে সচল করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন।

আতঙ্কের পর দুর্ভোগ

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালটির মূল ভবন থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখে সবার মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক। তখনই রোগীদের অনেকে ভয়ে বেরিয়ে আসতে থাকেন।

দ্বিতীয় তলার ওয়ার্ডে থাকা এক রোগীর স্বজন বলেন, “আমাদের একজন এসে বলে আগুন লাগছে আপনারা সবাই বাইরে চলে যান। তখন আমি আমার রোগীকে নিয়ে বাইরে চলে আসি।”

আরেক রোগীর স্বজন বলেন, আগুনের কথা শোনার পর তিনি ধোঁয়া উড়তে দেখেন। এই পরিস্থিতি দেখে তিনি তার রোগীকে নিয়ে বাসায় চলে যান।

এরপর সব রোগীকে বের করে আনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ; তাদের রাখা হয় হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও সামনের মাঠে। আইসিইউতে থাকা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় অন্য হাসপাতালগুলোতে।

গুরুতর অসুস্থসহ কয়েকশ রোগীকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।

পরে অন্য রোগীদেরও বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে এর বাইরে অনেকের স্বজনরা নিজ নিজ উদ্যোগে তাদের রোগীদের নিয়ে চলে যান। তবে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এই রোগীদের কাউতে কাউকে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে দেখা গেছে।

আগুনের সূত্রপাত ঘটার পরপরই হাসপাতালটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। সোয়া ৭টার দিকে বিদ্যুৎ ফিরে আসে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, “আগুন লাগার পর সবাইকে বের করে আনা হয়। কেউ হতাহত হয়নি।”

শেরে বাংলানগরের হাসপাতালটিতে পরিচালক ডা. উত্তম বড়ুয়া বলেন, “হাসপাতালে ১১ থেকে ১২শ রোগী ছিল। এর মধ্যে ১০ জন ছিল আইসিইউতে।” এসব রোগীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পাশের কেয়ার হাসপাতালে ৩০ জন রোগীকে নেওয়া হয় বলে বেসরকারি এই হাসপাতালটির মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল্লাহ খান জানান।  তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী থেকে ৩০ জন রোগীকে আনা হয়েছিল তাদের হাসপাতালে। এরমধ্যে ২৭ জন ভর্তি হয়েছেন; তার মধ্যে সাতজনকে রাখা হয়েছে আইসিইউতে।

কেয়ারে আনা একটি শিশুর মৃত্যুর খবরও দেন আবদুল্লাহ খান। অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সোহরাওয়ার্দীর শিশু ওয়ার্ড।

দেড় বছর বয়সী শিশুটিকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল বলে জানিয়ে আবদুল্লাহ খান বলেন, “শিশুটিকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল। আগুন লাগার পর অক্সিজেন মাস্ক খুলে তাকে আনা হয়েছিল। আমরা তাকে ডেড হিসেবে পেয়েছিলাম।”

যে শিশুটি মারা গেছে, তার কোনো নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। আবদুল্লাহ খান বলেন, “ওই সময় এত হুড়োহুড়ি ছিল যে তা রাখার অবস্থা ছিল না। শিশুটির স্বজনরা সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে নিয়ে চলে যায়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তাও একটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার কথা জানান।

এমবি