রাজধানী মিরপুরের রূপনগরে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও ওএমএসের ট্রাক থেকে ন্যায্যমূল্যে চাল কিনতে নিম্নআয়ের মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

লকডাউন শুরু হয়ে গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে জমানো টাকা নেই, নেই কাজ আবার পণ্যের মূল্য বেড়ে যায়। দু’বেলার জায়গায় একবেলা খাওয়ার চাল কিনতে হলে ওএমএস এর চাল ছাড়া গতি নেই তাদের।

তাই চালের ট্রাকের কাছে ক্রেতাদের লাইনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। সন্তান কোলে নিয়েও অনেক নারীরা স্বল্পমূল্য চাল কেনার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় ছিলেন। অনেকে আবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরেছেন শূন্য হাতে।

আজ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) লকডাউনের ১ম দিনে মিরপুরের রূপনগর এলাকায় ওএমএসের ট্রাকের সামনের এ লাইনে স্বাস্থ্যবিধি ছিল উপেক্ষিত।

ওএমএসের ট্রাক থেকে ন্যায্যমূল্য চাল কিনতে লাইনে দাঁড়ান রিকশাচালক। লম্বা লাইনে গাদাগাদি করেই অপেক্ষায় ছিলেন ন্যায্যমূল্যে ৫ কেজি চাল কেনার আশায়। ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তার।

১ বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে গৃহিণী চালের জন্য লম্বা লাইনে অপেক্ষা করছেন। কখন চাল পাবেন, তা অনিশ্চিত। বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ওএমএস-এর ট্রাকের কাছে এসেছেন বলে জানান তিনি।

লাইনে দাঁড়ানো ওএমএসের ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা চাল দিতে বেশি সময় নেয়ায় ভিড় বেড়ে যাচ্ছে। একজনকে চাল দিতে অনেক সময় লাগছে বলে ধীরে ধীরে লাইন বড় হয়ে ভিড় তৈরি হয়েছে। অনেকে কয়েকঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন চাল কেনার জন্য। কেউ কেউ আবার দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর চাল না পেয়ে হতাশ হয়েই বাড়ি ফিরছে।

চাল বিক্রেতা আক্তার হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, রূপনগর শিয়ালবাড়ির মোড়ে নাসরিন আক্তার ডিলারের ট্রাকে আমরা ৪ জন কাজ করি। ৩০ টাকা দরে একজন ক্রেতার কাছে সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে চাল বিক্রির নিয়ম। প্রতিদিন ৫২ বস্তায় মোট ৪০০ কেজি চাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, চাল দেয়ার পর দুই জায়গায় ক্রেতার টিপসই নিতে হয় বলে কিছুটা সময় লাগে। এ কারণে লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে। ফাঁকা হয়ে দাঁড়ানোর সবাইকে বার বার বলা হলেও তারা কথা না শুনে জটলা তৈরি করছেন।

এইচএন