লালমনিরহাটে বিষ প্রয়োগে পাখি হত্যার অভিযোগ উঠেছে মানবপশু আবুল কাশেম নামে এক চাতাল মালিকের বিরুদ্ধে।

নদীর পাড়ঘেঁষে দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ। ধানক্ষেতের মধ্যে ছোট ছোট ফলদ ও বনজ গাছের বাগানে বাসা বেঁধেছে পাখির দল।

বৃষ্টি ছোঁয়ায় প্রকৃতি যেন আরো স্নিগ্ধ হয়েছে এখানে। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের মাঝে লুকিয়ে আছে এক নিষ্ঠুরতার গল্প।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাখির নমুনা জব্দ করে সেগুলো জেলা পশু হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে সদর থানা পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, লালমনিরহাট পৌরসভার সুকান দিঘী এলাকায় কাশেমের চাতাল মিলে শুকাতে দেওয়া ধান খেয়ে ফেলে পাখি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই চাতাল মালিক কিছু ধানে বিষ মিশিয়ে চাতালের চার দিকে রেখে দেন।

এসব ধান খেয়ে প্রায় শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মৃত্যু হয়। শনিবার সকালে স্থানীয়রা চাতাল থেকে শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির মৃত পাখি উদ্ধার করে।

এসব মৃত পাখির ছবি তুলে পাখি হত্যার বিচার দাবি করে মাহাবুব হাসান মনু নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার দেওয়া হলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মৃত কয়েকটি পাখি সংগ্রহ করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা পশু হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

স্থানীয় ফেসবুক পোস্টকারী যুবক মাহাবুব হাসান মনু বলেন, ধান খাওয়ার অপরাধে দুই/ তিনদিন ধরে বিষ প্রয়োগে পাখি হত্যা করেই চলেছেন চাতাল মালিক কাশেম।

শনিবার সকালেও ওই চাতাল থেকে শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির মৃত পাখি উদ্ধার করা হয়েছে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মকবুল হোসেন বলেন, বন্য পাখিগুলো কীভাবে মারা পড়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর বলেন, ঘটনা তদন্তে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নুরনবী/এএস