মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় আন্ত:নগর উপবন এক্সপ্রেসের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ভয়ানক দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয় ঘটনাস্থলে ৩ জন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো অন্তত দুই শতাধিক।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি গতকাল রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বরমচাল স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে ইসলামাবাদ এলাকায় পৌঁছলে পেছন দিকের বগিতে বিকট শব্দ হয়।

এর কিছুক্ষণের মধ্যে সামনে বড়ছড়া ব্রিজ ভেঙে একটি বগি পড়ে যায়। আরো তিনটি বগি ব্রিজের পাশে উল্টে দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ছাড়া অন্য দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।’

দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা হয়তো স্বাভাবিক চিন্তার চেয়ে বেশি হয়ে যেতে পারতো। যদি প্রশাসন তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে না পৌঁছাতো।

আর পুলিশ প্রশাসনকে ঘটনার ২-৩ মিনিটের মাথায় যিনি জানান তিনি শাহান মিয়া। ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশকে জানায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্য রওনা হয় পুলিশ। পৌঁছে দেখে ঘটনা সত্য।

ট্রেন দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাহান মিয়া বলেন, আমি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। বরমচাল সেতুর অনেকটা দূরে আমি তখন। হঠাৎ বিকট শব্দ কানে আসে। সেই সঙ্গে ভেসে আসে মানুষের কান্না, চিৎকার। দূর থেকে তাকিয়ে দেখে, বরমচাল সেতু ভেঙে ট্রেনের বগি নিচে। কাছে যেতেই মানুষের কান্নার আওয়াজ আরও জোরে শোনা যায়। ঘটনার ২-৩ মিনিটের মধ্যেই আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেই। সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ হয় ফোন। তখন পুলিশকে পুরো ঘটনা খুলে বলি। যদি সময়মতো পুলিশ না আসতো আরও অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটতো।

তিনি আরও বলেন, বরমচাল স্টেশন সংলগ্ন সেতুতে হঠাৎ ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খালে পড়ে যায় এবং একটি বগি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া লাইনচ্যুত বগির যাত্রী ছাড়াও মারাত্মক ঝাকুনিতে অন্তত দুই শতাধিক যাত্রী আহত হয়। ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উয়ারদৌস হাসান বলেন, রাত ১২টার কিছুক্ষণ আগে এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর জানায়। এত রাতে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার খবর শুনে অবাক হই আমরা। সেই সঙ্গে তখনই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্য রওনা দেই। সেখানে গিয়ে ৬ জনের মরদেহ এবং অন্তত দুই শতাধিক মানুষকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই ওই যুবক ৯৯৯ নম্বরে ফোন না দিলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতো।

ওসি আরও বলেন, ইতোমধ্যে উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করেছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি। ট্রেনের অন্য যাত্রীদেরও নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, হতাহতদের উদ্ধার সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও সিলেট সদর দফতর থেকে দমকল বাহিনীর একাধিক ইউনিট উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয়। রাত ৪টার দিকে উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে।

জেড