নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবি কর্তৃক দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার কলঙ্কময় দিন শুক্রবার।

১৩ বছর আগে ২০০৫ সালের এই দিনে ভয়ে আঁতকে উঠেছিল গোটা দেশ। মুন্সিগঞ্জ বাদে রাজধানীর ৩৪টি স্পটসহ দেশের ৬৩টি জেলায় ৫০০ বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই হামলায় নিহত হন দুজন এবং আহত হন দুই শতাধিক মানুষ।

ভয়াবহ ওই হামলার ১৩ বছর পার হলেও এখনো ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর বিচারকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশে ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ৯৪টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এই মামলাগুলোতে ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। এখন ৫৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে, যার আসামি ৩৮৬ জন। রায় প্রদান করা মামলাগুলোর মধ্যে ৩৪৯ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ২৭ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় হয়েছে। এর মধ্যে আটজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহ আলম তালুকদার বলেন, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ১৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলার রায় হয়েছে। ১১টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল এবং বাকি ৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় আছে। বিচারাধীন এই মামলাগুলো আগামী জানুয়ারির মধ্যে শেষ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, আল-কায়েদার অনুসরণেই ১৯৯৮ সালে জেএমবির সৃষ্টি হয়। ২০০৫ সালে ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে তারা তাদের শক্তির জানান দিতে চেয়েছিল। ওই ঘটনায় অনেকের বিচার হয়েছে। এখনও জেলে রয়েছে শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা।

উল্লেখ্য ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ বাদে দেশের ৬৩টি জেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জেএমবি। নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিতে সেদিন ঢাকার ৩৪টি স্পটসহ ৬৩টি জেলার ৪০০ স্পটে বিস্ফোরণ ঘটায় তারা।

জেড