সচিব পর্যায়ে বর্তমানে পদ শূন্য আছে ৫টি। ৩০ নভেম্বর সোমবার আরো দু’টি সচিব পদ খালি হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী পদ খালি হওয়ার আগ মুহূর্তেই সচিব পর্যায়ের পদে পদায়ন হওয়ার কথা।
সেই হিসেবে এখন সচিব পর্যায়ে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৭টি। এমন পরিস্থিতি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে তো নয়ই, সুদূর অতীতে কখনো হয়েছিলো কিনা কেউ মনে করতে পারছেন না।
ইতিপূর্বে দেখা গেছে, সচিব পর্যায়ের পদে অবসরের সময় হলে নতুন কাউকে পদায়ন করা অথবা ওই পদে যিনি আছেন তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া- যেটিই হোক এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এবং প্রজ্ঞাপন জারি হয়ে যেতো পদ শূন্য হওয়ার আগেই।
কিন্তু, এখন একে একে ৭টি সচিব পদে পদায়ন অপেক্ষমাণ হলেও কেন এগুলোর ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না তা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ নভেম্বর নেদারল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে সচিব পদে পদায়নের প্রস্তাব এক দফায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তোলা হয়েছিলো।
প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, নেদারল্যান্ড থেকে ফিরে এলে সচিব পদে পোস্টিং দেবেন।
৫ নভেম্বর রাতেই প্রধানমন্ত্রী নেদারলান্ড থেকে ফিরেছেন। ওই সময় পর্যন্ত সচিব পদ খালি ছিলো ৩টি- ভূমি সচিব, পিএসসি’র সচিব এবং প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য।
গত ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ভূমি সচিব থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তখনই ভূমিসচিব পদে পোস্টিং হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু, তা হয়নি।
এর আগে ২১ অক্টোবর অবসরে যান প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য পরীক্ষীৎ দত্ত চৌধুরী। ৩১ অক্টোবর শাহজাহান আলী মোল্লা অবসরে গেলে পিএসসি’র সচিব পদ শূন্য হয়।
চলতি মাসের ১৫ নভেম্বর অবসরে গেছেন যুব ও ক্রীড়া সচিব, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ এবং ২০ নভেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আরাস্তু খান।
এছাড়া ৩০ নভেম্বর সোমবার অবসরে যাচ্ছেন নৌ-পরিবহন সচিব শফিক আলম মেহেদী এবং শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান।
গত দুই মাসে যেসব সচিব পদ খালি হয়েছে তারমধ্যে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ব্যাপারে সরকার অগ্রিম সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। তার চাকরির বয়স শেষ হওয়ার ৫ দিন আগে তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সচিব যেহেতু মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সবচে’ শীর্ষ প্রশাসনিক পদ তাই কোনো সচিব অবসরে যাওয়ার আগেই ওই পদে নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার নিয়ম প্রচলিত রয়েছে।
যাতে নতুন সচিবের কাছে অবসরে যাওয়া সচিব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারেন, সেজন্যেই এই ব্যবস্থা।
অতীতে ক্ষেত্র বিশেষে দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায়ই এ নিয়ম মানা হয়েছে। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, জনপ্রশাসন থেকে সার-সংক্ষেপ তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হলে খুব একটা বিলম্ব হয়নি।
কখনো সঙ্গে সঙ্গে, কখনোবা বিলম্ব হলেও এক/দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত এসে গেছে। সার-সংক্ষেপ পরিবর্তন করতে হলে তাও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক করা হয়েছে।
কিন্তু, এবারই সচিব নিয়োগে চরম সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগতে দেখা যাচ্ছে সরকারকে।
এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের সুপারিশ বা মতামতের ওপর নির্ভর করে থাকেন এদের নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বই বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে।
ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব যাওয়ার আগে এরাই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে মোটামুটি একটা ফয়সালা করে নিতেন। যে কারণে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর তেমন একটা বেগ পেতে হতো না। কিন্তু, বর্তমানে এদের নিজেদের মধ্যেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। আর তাই জনপ্রশাসনের কাজকর্মে সরকারও গতি হারিয়ে ফেলেছে।
এদিকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে জনপ্রশাসন মন্ত্রী করা হলেও তিনি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ভূমিকাই রাখছেন না।
এমনকি অফিসেও আসেন না। প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক আগের মতোই ম্রিয়মান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনটি সচিব পদ যখন খালি ছিলো ওই সময় ভূমিসচিব পদে ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রব হাওলাদারের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিলো।
এর বিকল্প হিসেবে আবদুর রব হাওলাদারকে খাদ্য সচিব করে মুশফেকা ইকফাতকে ভূমিসচিব করারও চিন্তা ছিলো।
অন্যদিকে নতুন ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রস্তাব ছিলো স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অশোক মাধব রায় এবং বিসিকের চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন খানের নাম।
কিন্তু এখন যেহেতু সচিব পদ ৭টিতে পদায়ন করা হবে এক্ষেত্রে কার কতটা কপাল খোলে, আর পোড়ে সবই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তবে জানা গেছে, সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে আগামী সোমবার অর্থাৎ মন্ত্রিসভা বৈঠকের দিন। আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রদবদলও এরসঙ্গে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এসএইচ





