রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে পুলিশের সঙ্গে বিহারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একই পরিবারের আটজনসহ ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পবিত্র শবে বরাতের রাতে আতশবাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৫ জনই শিশু বলে জানা গেছে।

নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) মিরপুর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইমতিয়াজ আহমেদ। তবে ঠিক কতজন মারা গেছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ফজরের নামাজের পর এলাকার কিছু বিহারী যুবক আতশবাজি ফোটাতে শুরু করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পরে ওই যুবকরা আরও লোকজন জড়ো করে লাঠিসোটা সহকারে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিহারীরা রাস্তায় বাইসাইকেলে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের পক্ষ নিয়ে এলাকাবাসীও বিহারীদের ওপর হামলা করে।

সংঘর্ষের সুযোগে কিছু অসাধু লোকজন সেখানকার দোকান-পাট ভাংচুর করে লুট করে এবং বিহারীদের বস্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। এরইমধ্যে আজাদ (৩৫) নামে একজনের মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়াও পুলিশের গুলিতে মো. আসলাম (৫০), বদর উদ্দিন (৪৫), আরজু (১৬) নামে তিন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ফারজানা নামে মিরপুর-১২ এর কুর্মিটোলা ক্যাম্পের এক দগ্ধ নারী ঢামেকে'র বার্ণ ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। তার মুখ, শরীরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে পুড়ে গেছে।

থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহাবুবুল হক জানিয়েছেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
সংঘর্ষের কারণে কালসী ও আশপাশের বেশ কয়েকটি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সংঘর্ষ থেমে গেলেও বিহারীদের বিক্ষোভে উত্তাল রয়েছে ওই এলাকা।

এ ঘ্টনার পর থেকে মিরপুরে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিরপুর থেকে রাজধানীগামী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ঢাকা, ১৪ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর