পাচারের উদ্দেশে নিয়ে আসা ৩ কিশোরীকে গাজীপুর থেকে উদ্ধার করেছে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ। এ সময় আখতারী বেগম (৫০) নামের এক পাচারকারীকে আটক করা হয়।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ডাইকিনি গ্রামে রজব আলী ওরফে মজনু মিয়ার বাড়িতে ‍অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার (০৫ জুন) অভিযান চালিয়ে কিশোরীদের উদ্ধার করে।

শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে রাজশাহী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তাদের তিন কিশোরীকে হাজির করা হয়।

উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরীর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায়। এছাড়া পাচারকারী আখতারী বেগম একই উপজেলার বংপুর গ্রামের আফসার আলী আকুর স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, আখতারী বেগম কিশোরীদের মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের পাচার করতে চেয়েছিলেন।

পুলিশের হাতে আটকের পর আখতারী বেগম জানান, কৌশলে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন তাদের ৩ কিশোরীকে। পরে ১৮ মে গোপনে তাদের তিনজনকে রাজশাহী থেকে বাসে করে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উদ্দেশে পাঠনো হয়। কিন্তু তারা ভুল করে গাবতলী বাস টার্মিনালে নামে।

এরপর তারা আখতারী বেগমের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তাদের গাজীপুর যেতে বলেন। কিন্তু তাদের কাছে টাকা না থানায় একজন ছাত্রীর কানের স্বর্ণের দুল বিক্রি করে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ডাইকিনি গ্রামের রজব আলী ওরফে মজনুর বাড়িতে উঠেন।

৫ জুন তাদের নন্দন পার্কে নিয়ে গিয়ে জনৈক জীবন, লতিফ ওরফে কাজেম ও রমজানসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন আখতারী বেগম। কিন্তু ওই দিনই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবির জানান, ঘটনার ভিকটিমের পরিবারের লোকজন বিষয়টি গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ বিষয়টি খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য মাঠে নামে। পুলিশ তাদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট দেখে অবস্থান নিশ্চিত হয়। পরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ডাইকিনি গ্রামের রজব আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিমদের একজনের বাবা বাদী হয়ে গোদাগাড়ী থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামি আখতারী বেগমকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান এসপি।

এমকে