বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গতকাল কারওয়ান বাজারে আসবেন এটা পুলিশ জানত না বলে দাবি করেছেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে তিনি এ দাবি করেন।

বিপ্লব বলেন, খালেদা জিয়ার আসার বিষয়টি না জানার কারণে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে সেখানে চারজন পুলিশ সদস্য ছিলেন।

ঘটনার সময় তাঁরা তাদের সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে খালেদা জিয়াকে নিরাপদে বের করে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু খালেদা জিয়া নয়, যেকোনো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেটা যথাসম্ভব করার চেষ্টা করি।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারীর পক্ষ থেকে করা মামলা দুটির প্রসঙ্গে বিপ্লব বলেন, মামলা দুটিতে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজেরও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। দুটি মামলাতেই গুলি বর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভিডিও ফুটেজে খালেদা জিয়ার এক নিরাপত্তা কর্মীকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করতে দেখা গেছে। তবে গুলি করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এই উপকমিশনার বলেন, ‘আমাদের কাছে কে আওয়ামী লীগ আর কে বিএনপি তা মুখ্য নয়। আমাদের কাছে মুখ্য কে অপরাধী সেটা।’

গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পথসভা ও গাড়িবহরে হামলা হয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় সরকারি দলের কর্মী-সমর্থকেরা এ হামলা চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া তখন মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে সরকার-সমর্থকেরা খালেদা জিয়ার গাড়ি, পেছনে থাকা চেয়ারপারসনের অতিরিক্ত গাড়ি (স্পেয়ার কার) ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের (সিএসএফ) তিনটি গাড়ি এলোপাতাড়ি ভাঙচুর করেন।

এ ছাড়া সেখানে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় খালেদার দুজন নিরাপত্তাকর্মী ফজলুল করিম ও ফারুক হোসেন, একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার ও খালেদা জিয়ার একজন গাড়িচালক শাহজাদা শাহেদ এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। খালেদা জিয়ার গাড়ির সামনের অংশে রক্তের দাগ দেখা গেছে। তবে খালেদা জিয়া অক্ষত আছেন।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করেন ঢাকা মহানগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক। মামলায় অজ্ঞাত ১০০ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়ে​ছে।

আর আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ থানায় জমা দেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সানাউল্লাহ মিয়া।

পরে লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে। তবে মামলায় আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

এসএইচ