শিশু-কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন থাকলেও তা মানছে না কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসন। আইন ভঙ্গ করে বখাটেপনার অভিযোগে জেলার শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের পোশাক পরিহিত অষ্টম থেকে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া একদল ছাত্রকে কুষ্টিয়া মডেল থানার কাস্টডিতে আটক রেখেছিলেন ওসি।
রোববার বিকালে গণমাধ্যমকর্মীরা এ সংক্রান্ত চিত্র ধারণ করতে গেলে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল খালেক ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।
আটককৃত ছাত্ররা কোনো অপরাধী না। কিন্তু অন্যান্য অপরাধের দায়ে আটক বা গ্রেফতারকৃত আসামিদের সঙ্গে কাস্টডিতে তাদের কেন রাখা হয়েছে, জানতে চাইলে ওসি আবদুল খালেক অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেন, কাস্টডিতে কেন ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো জবাব দিতে আমি বাধ্য নই।
শহরের মজমপুর এলাকার বাসিন্দা নবম শ্রেণিতে পড়–য়া অয়নের পিতা মুরাদ হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাচ্চাকে স্কুলে পাঠিয়েছি। স্কুল চলাকালীন সময়ে কীভাবে বখাটেপনা করল? আর কোনো অপরাধেই বা বাচ্চাটাকে দাগী আসামিদের সঙ্গে কাস্টডিতে ভরে রাখা হলো?
জিলা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তানভীরের বাবা পুলিশ কাস্টডিতে ভরে রাখা নিজের ছেলেকে দেখে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ওসি সাহেব নিজেও বলছেন, ওরা ক্রিমিনাল না। তাহলে কী কারণে এই কোমলমতি বাচ্চাদের সারাদিন ধরে কাস্টডিতে আটকে রাখলেন?
আরেক অভিভাবক শাহজাহান আলী বলেন, ওসি সাহেব উদ্যোগ নিয়ে অভিভাবক এবং স্কুলের শিক্ষকদের ডেকে উভয়পক্ষের সমন্বয়ে সংশোধনীর একটা অ্যাওয়ারনেস দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটি না করে রীতিমত অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমি বলেন, ওই বাচ্চাদেরতো কাস্টডিতে রাখার কথা নয়। কেন এদের কাস্টডিতে রাখা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক খন্দকার ওয়াহিদুজ্জামান জানান, স্কুল চলাকালীন কম্পাউন্ড থেকে ১১ জন ছাত্রকে পুলিশ আটক করেছে, তা তিনি জানেন না। তাদের পুলিশ কাস্টডিতে রাখা হয়েছে, সেটাও তাকে জানানো হয়নি বা তিনি জানেন না।
কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান জানান, স্কুলের ছাত্রদের অন্যান্য চিহ্নিত অপরাধীদের সঙ্গে পুলিশ কাস্টডিতে আটক করা হয়ে থাকলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের উপর অবশ্যই দায় বর্তায়। এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক।
কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই ওবাইদুর রহমান জানান, ওই ছাত্রদের আটক করার সময় সেখানে স্কুলের কয়েক জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের বলা হয়েছিল থানা থেকে ছাত্রদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে।
কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সভাপতি জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, স্কুলগামী বাচ্চাদের আটক করে কাস্টডিতে রেখে আইনের ব্যত্যয় ঘটে থাকলে বিষয়টি দেখা হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সামস তানিন জানান, জাতিসংঘ শিশু সনদ, ১৯৭৪ সালের শিশু আইন সংশোধনী ২০১৩ এর ২৯ ধারায় স্পষ্ট করে বলা আছে, আইনের সংজ্ঞানুযায়ী শিশু-কিশোর বলতে যাদের বোঝাবে তাদের প্রয়োজনে সংশোধন কেন্দ্র বা সেভ কাস্টডি ব্যতিরেকে কোনোভাবেই পুলিশ কাস্টডি বা কারাগারে রাখা যাবে না।
কেএইচ





