সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর পর বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল হচ্ছে ১০ ডিসেম্বর। তবে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই কাউন্সিল নিয়ে আগ্রহ কমে গেছে নেতাকর্মীদের মাঝে।
সভাপতি পদে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আলহাজ মমতাজ উদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
কাউন্সিল ঘিরে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়সহ স্থানীয় নেতাদের ছবি সংবলিত বড় ডিজিটাল ব্যানার ঝোলানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শহরের জিরোপয়েন্টে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ার ও বিভিন্ন কোম্পানির বড় বড় সাইনবোর্ডগুলো ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মজিবর রহমান মজনু জানান, বর্তমান কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও ১০ বছরেও কোনো সম্মেলন হয়নি। সর্বশেষ ২০০৪ সালের ৮ আগস্ট কাউন্সিল হয়। এতে মমতাজ উদ্দিন সভাপতি ও মজিবর রহমান মজনু সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। মজনু সে সময় নতুন দায়িত্বে এলেও মমতাজ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ১৯৯২ সাল থেকে। এর আগে তিনি সাধারণ সম্পাদের দায়িত্ব পালন করেছেন আরো কয়েক বছর। ফলে তার প্রভাব জেলার সর্বত্র।
জেলা যুবলীগ সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মোহন জানান, মমতাজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সভাপতি থাকায় জেলার সর্বত্র তার প্রভাব অনেক। তার সাথে সভাপতি পদে কারো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ নেই।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীরা হলেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মজিবর রহমান মজনু, জেলা যুবলীগ সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মোহন, রাগেবুল আহসান রিপু ও টি জামান নিকেতা। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য না হওয়ায় মোহনের প্রার্থিতা না-ও থাকতে পারে। এ নিয়ে মোহন সংশয়ে রয়েছেন বলে তার সাথে কথা বলে জানা গেছে।
সরজমিনে দেখা যায়, কাউন্সিল ঘিরে এখন পার্টি অফিসে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রচণ্ড ভিড়। সবার আশা, নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
সামগ্রিক প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে, কাউন্সিল এবার হচ্ছেই। গত সপ্তাহে ১৭ বছর পর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলেও কোন্দলের কারণে কমিটি হয়নি। কিন্তু সে বিষয়টি কেউ সামনে আনছেন না।
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, অনাড়ম্বর পরিবেশে ভোটের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচন হবে। এ ব্যাপারে কোনো পেশিশক্তি বরদাশত করা হবে না। সম্মেলনের মাধ্যমে যারা নেতা নির্বাচিত হবেন তারাই আওয়ামী লীগের তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি।
জেআই





