কুয়েতে নেপালি এক নারীকে ধর্ষণের দায়ে মোহাম্মদ শাহ আলম নামের এক বাংলাদেশি যুবকের ফাঁসি কার্যকর করেছে দেশটি। বাংলাদেশি এই যুবকের সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধে আরও ছয় জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। শাহ আলমের বাড়ি ঢাকার কদমতলী থানার ফরিদাবাদে।

বুধবার স্থানীয় সময় ভোরে এ দণ্ড কার্যকর করা হয়। বুধবার দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশনের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দণ্ড কার্যকর হওয়াদের মধ্যে দেশটির রাজপরিবারের এক যুবরাজকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত অপর যুবরাজ শেইখ ফয়সাল আল আব্দুল্লাহ আল সাবাহ রয়েছেন। এছাড়া অন্যরা হলেন, কুয়েতের নাগরিক নাসরা আল ইনেজি, দুই মিসরীয়, এক বাংলাদেশি, এক ফিলিপিনো ও এক ইথিওপিয়ান নাগরিক। ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়াদের সঙ্গে স্বজন ও নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিকরা মঙ্গলবার সর্বশেষ সাক্ষাৎ করেন।

২০০৮ সালের ২৮ নভেম্বর অপহরণের পর ধর্ষণ ও অত্যাচারের দায়ে বাংলাদেশি যুবক শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেয় কুয়েতের সর্বোচ্চ আদালত।

কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আবদুল লতিফ খান জানান, বিগত দুই বছর যাবৎ নেপাল ও বাংলাদেশ দূতাবাস অনেক চেষ্টা করেও অভিযোগকারীর খোঁজ পায়নি। ওই নেপালির মালিক ছিল একজন ইরানি। তিনিও কুয়েত ত্যাগ করে চলে গেছেন। অভিযোগকারীকে পেলে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে হয়তো শাহ আলমকে বাচাঁনোর চেষ্টা করা যেত। এজন্য নেপাল দূতাবাস ও বাংলাদেশ দূতাবাস যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন।

দূতাবাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শেষ দেখা করার সময় শাহ আলমের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মায়ের সঙ্গে ৫ মিনিট কথা বলেন। এ সময় তিনি তার ছোট ভাইকে দেখে রাখার জন্য মাকে অনুরোধ জানান।

এমই