গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায় না করে আপনারাও মজুরি গ্রহণ করতে পারবেন না। আপনারা স্বাধীনতার চেতনায় দেশ চালানোর কথা বলেন, শুধু মুখের কথায় স্বাধীনতার চেতনা রক্ষা হয়না।

এসব বঞ্চিত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে প্রমাণ করুন আপনি স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির(সিপিবি)সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র আয়োজিত সোয়ান গার্মেন্টস শ্রমিকদের তিন মাসের বকেয় বেতনও ঈদ বোনাস প্রদান, বে-আইনি ভাবে বন্ধকৃত কারখানা খুলে দেয়া এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে এক অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিপিবির সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রত্যেক এমপির জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে, তার এক ভাগও যদি এসব অবস্থানরত শ্রমিকদের দেয়া হয়, তাহলে তাদের এখানে আর অবস্থান করতে হয়না।

কিন্তু দেখা যায় যে সব টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় তার সিংহ ভাগই দলীয় নেতা কর্মীরা ভাগ-বাটোয়ারা করে বহুতল দালানে অবস্থান করেন, তাদের কাছে এসব শ্রমিকদের আর্তনাদ পৌছায় না।

মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্তী আপনি অবিলম্ভে ঘোষণা দেন আপনার বিশেষ তহবিল থেকে হলেও এসব শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ হউক, যাতে এদের পরিবারে ঈদের আনন্দ পৌছে।

শ্রমিক নেতা এমদাদুল ইসলাম বলেন, রানাপ্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনের ক্ষত এখনো কাটেনি। ১২৭ কোটি টাকা তহবিলে জমা হয়েছিল, সেখান থেকে মাত্র ২৪ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে আরো ১শত ৫ কোটি টাকার কি অবস্থা আামাদের জানাতে হবে।

শ্রম দিতে আমরা কোন কার্পণ্য করিনি, এখন আমাদের পাওনা দিতে কেন কার্পণ্য করা হবে।আমাদের ন্যায্য পাওনা নিতে যখন অবস্থান কর্মসূচি করছি, আমাদের প্রতিহত করার জন্য সরকার রায়ট কার, জলকামানও প্রশাসন বাহীনির বিশাল বহর দিয়ে আমাদের ঘিরে রেখেছে।আমরা কার কাছে যাব।

আর কদিন পরেই ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে, তখন মালিক পক্ষ এটাকে ওজুহাত হিসেবে গ্রহণ করবে, তাই আমাদের দাবী কালকের মধ্যেই শ্রমিকদের বেতন বোনাসসহ কলক পাওনা পরিশোধ করা হউক।

অবস্থান কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, রুহিন হোসেন প্রিন্স, মন্জুরুল আহসান খান, সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি, শহিদুল্লাহ চৌধুরী, সভাপতি ট্রেড ইউনিয়ন, এড. মন্টু ঘোষ, সভাপতি গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র প্রমূখ।

এমএ/এসএইচ