রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে আজ রোববার তদন্তে নামছে ফায়ার সার্ভিস। গত শুক্রবার আগুন নেভানোর পরেই ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ডিরেক্টর শেখ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে রোববার সকাল পযন্ত তদন্ত কাজ শুরু করেনি গঠিত তদন্ত কমিটি।
বিএসইসি ভবনের ১১তলায় অবস্থিত আমারদেশ পত্রিকার অফিস। অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পত্রিকারটির। আমারদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি পরিকল্পিত। আমারদেশকে এর আগে মেরে ফেলা হয়েছে। শুক্রবার অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে তা কবর দেয়া হলো। তাই একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ঘটনা বের করার আহবান জানিয়েছেন আমারদেশ কর্তৃপক্ষ।
শনিবার তদন্ত কমিটির প্রধান ও ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ডিরেক্টর শেখ মিজানুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করার পর বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী কারা কারা ছিলো, তাদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। র্যাব ও পুলিশের বক্তব্য নেয়ার জন্য নাম নেয়া হয়েছে। ওই ভবনের বিভিন্ন জনের নাম সংগ্রহ করা হয়েছে। এমনকি আমারদেশ অফিসের মালামাল শিফট করার সময় কারা কারা ছিলো তাদের নামও নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে রোববার থেকে তদন্ত কাজ শুরু করা হবে। তদন্ত কাজ শেষ না অবধি অগ্নিকান্ডের কারণ সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানাতে রাজি নন তিনি।
অন্যদিকে আমার দেশ অফিসের মালামাল শিফট করার সময় উপস্থিত ছিলেন এসি টেকনিশিয়ান আহাম্মেদ আলী খান। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার অফিসের মালামাল শিফট করা হচ্ছিল। ৩৫টি এসির মধ্যে ৯টি এসি, ১১০টি কম্পিউটারের মধ্যে কিছু কম্পিউটার সরানো হয়েছে। এর মধ্যেই হঠাৎ করেই ওই ভবনের পেছনের দিক থেকে আগুনের ফুলকি দেখতে পেয়ে নিজেরা নেভানোর চেষ্টা করি। নেভাতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করা হয়।’
আমাদেশ পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে বিএসইসি ভবনে স্বরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গঠিত তদন্ত কমিটি একটি রিপোর্ট পেশ করে ফায়ার সার্ভিস হেড অফিসে। কিন্তু ওই তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি।
ওই তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত কমিটি তদন্ত কাজ শেষ করে কার কাছে জমা দেবেন। তারা ফায়ার সার্ভিসেই জমা দেবেন। তাই করা হয়েছে। এখন যার যার দরকার তা ফায়ার সার্ভিস থেকেই সরকারী ফি জমা দিয়ে সংগ্রহ করবেন।’
বিএসইসি ভবনে শুক্রবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ১১ তলায় এখন পর্যন্ত কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিএসইসি কর্তৃপক্ষ ১১ তলায় বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। কোনো আলামত নষ্ট হয়ে যাবে এমন আশঙ্কায় ওই ভবনেরও কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আগামীকাল পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটে তালা বদ্ধ অবস্থায় থাকবে বলে জানা গেছে।
জেইউ/ এআর





