কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খোকনকে একদল দুর্বৃত্ত অপহরণ ও মুক্তিপন বাবদ ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার দাবিতে দুর্বৃত্তরা অপহৃতকে হত্যা চেষ্টাসহ হাতুড়ি পেটা করে নির্যাতন চালায়।
বুধবার রাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বত্তরা তাকে অপহরণ করে। তবে অপহরণের ৬ ঘণ্টা পর বৃহষ্পতিবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত ওই চেয়ারম্যানকে বন্দীদশা থেকে উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িত চার দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, চতুর্থ ধাপে ৭ মে অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান খোকন নন্দলালপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২০ এপ্রিল বুধবার রাত ১১ টারদিকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার লাহিনীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাকে অপহরণ করে। অপহরণের পর দুর্বৃত্তরা তাকে হাতুড়ি পেটাসহ শারিরিক নির্যাতন চালিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় বন্দীদশায় আটক রাখে। এ ছাড়া তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি জানান।
অপহরণকারীরা তার মুক্তিপনবাবদ ৭ লাখ টাকা দাবি করে এবং তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার খবর পেয়ে কুমারখালী থানার পুলিশ অপহরনের ৬ ঘণ্টা পর অভিযান চালিয়ে লাহিনীপাড়া এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেনের বাড়ি থেকে অপহৃত চেয়ারম্যানকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ ওই বাড়ির মালিক মোয়াজ্জেমসহ চার দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতরা হচ্ছে - লাহিনীপাড়া এলাকার মোয়াজ্জেম, আজিজ, রতন ও জহুরুল।
অপহৃত চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান উদ্ধারের পর জানান, তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্যই তাকে অপহরণ করে। এ ছাড়া নির্বাচন থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে ভয়-ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান (পিপিএম) জানান, অপরহণ ঘটনার পর খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক অভিযান শুরু ও অপহৃত চেয়ারম্যানকে বন্দীদশা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কুমারখালী থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে বলে ওসি জানান।
এআই





