মাদারীপুরে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি হয়েছে। এতে আহত হয়েছে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৭৫ জন।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজৈর উপজেলার তাঁতিকান্দি ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চরপ্রসন্নদী গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

টেকেরহাট বন্দরের কুমার নদীর দু’পাড়ে দুই পক্ষ অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ আর বিজিবি সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
এদিকে, সংঘর্ষের পর থেকেই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ গেছে। মহাসড়কের দুপাশে অন্তত ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

আহতের মধ্যে অধিকাংশকেই মাদারীপুর সদর হাসপাতাল, মুকসুদপুর ও রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাঁতিকান্দি ও চরপ্রসন্নদী গ্রামের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি রাজৈর উপজেলার টেকেরেহাটে সরকারি জায়গা দখল করে ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর দফায় দফায় দুপুর পর্যন্ত চলে সংঘর্ষ। দুই পক্ষই দেশিয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায়। সেই সঙ্গে গোলাগুলি হয়।

দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত হয় অন্ততপক্ষে ৭৫ জন। তাদের মধ্যে অধিকাংশকেই ভর্তি করা হয়েছে মাদারীপুর সদর হাসপাতাল, মুকসুদপুর ও রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

খবর পেয়ে মাদারীপুরের রাজৈর ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানা পুলিশ, সিন্ধিয়াঘাট ফাঁড়ি পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা তিনটি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল।

এদিকে, সংঘর্ষের পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয যানজটের।

মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক জানান, টেকেরহাট বন্দরের একাংশ মাদারীপুরের মধ্যে ও অপর অংশ গোপালগঞ্জের মধ্যে। দুই জেলার দুই উপজেলাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় তা বড় আকার ধারণ করেছে। সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে।

জেআই