অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরকে হত্যার জন্য কারাগারে বসে মোটা অংকের টাকার দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ।
বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মামুনুর রহমান ছিদ্দিকীর আদালতে এ কথা জানিয়েছেন জি কে গউছের উপর হামলাকারী ইলিয়াছ মিয়া।
হত্যা সংঘটন করার জন্য ইলিয়াছ মিয়াকে ওই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পিপি অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতু এ সব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরয়িা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে আছেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র জি কে গউছ। আর দুইটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে আছেন ইলিয়াছ মিয়া।
ইলিয়াছ মিয়া আদালতে আরো জানান, চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল- জি কে গউছ তার লোক দিয়ে তাকে (ইলিয়াছ) ঈদের আগে জামিনে মুক্ত করাবে এবং পরে অগ্রিম হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেবে। কিন্তু এর কিছুই করেননি জি কে গউছ।
এতে ইলিয়াছের মনে সন্দেহ হয়, হয়ত চুক্তির বিষয়টি ফাঁসের আশংকায় তাকেই (ইলিয়াছ) হত্যা করা হতে পারে। আর এ কারণেই তিনি জি কে গউছের উপর হামলা চালিয়েছেন।
ইলিয়াছ মিয়ার পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী না থাকায় তিনি নিজে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কারাগারের ভেতরে জি কে গউছের উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইলিয়াছ মিয়াকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে পিপি অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতু বলেন, কারাগার হলো নিরাপদ স্থান। এর ভেতরে অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করা স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
সৃষ্ট ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে, জেলের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের তথ্য উদঘাটনে ইলিয়াছকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত ১৮ জুলাই ঈদের দিন সকালে কারাগারে জি কে গউছের উপর হামলা করেন ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটন। ওই দিনই আহত জি কে গউছকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এর প্রতিবাদে জেলা বিএনপি ১৯ জুলাই হবিগঞ্জে আধাবেলা হরতাল পালন করে।
কারাগারের ভেতরে হামলা এবং পরবর্তীকালে ভাংচুরসহ বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের বিষয়ে তদন্ত করছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।
এই কমিটি ইতিমধ্যে কারাগার পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়েছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান এডিএম সফিউল আলম জানান, যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম ১৮ জুলাই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
অর্থমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে।
এমকে





