ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ৫ সচিবের বিরুদ্ধে সনদ ও গেজেট বাতিলসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার বিকালে দুদক সচিব মাকসুদুল হাসান খানের স্বাক্ষরিত এ চিঠি ওই দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবের দফতরে পাঠানো হয়।

জানা যায়, চিঠিতে সরকারের প্রকাশিত আগের গেজেট ও সনদ বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে দুদক। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণকারী ৫ সচিবের মধ্যে রয়েছেন; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (ওএসডি) সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী,একই মন্ত্রণালয়ের (ওএসডি) যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার,পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব একেএম আমির হোসেন,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ 

সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিঞা এবং প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের(পিএসসি) চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান।

দুদকের চিঠিতে সরকারের এ ৫ আমলার মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশিত গেজেট বাতিল,সংগৃহীত সনদ বাতিল,জালিয়াতির দায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতর আইনানুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্যপ্রদান করায় পাবলিক সার্ভিস কমিশনকেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের পাঠানো চিঠিতে এ ৫ জালিয়াত ও প্রতারক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও গেজেট সঠিক না হওয়ায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ২০০২ এর ৭ (ঝ) ধারা অনুযায়ী বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী জানান,মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় চাইলে এ ৫ সচিবের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে দুদক এ ঝামেলায় না জড়ানোর জন্যই পুরো বিষয়টি সরকারের উপর ছেড়ে দিয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক জুলফিকার আলী গত ২ সেপ্টম্বর ৫ সচিবের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়,অনুসন্ধানে তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণের সপক্ষে কোন দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। যে ৪ ক্যাটাগরির ভিত্তিতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করা হয় সেগুলোর আওতায়ও তারা পড়েন না। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে তাদের বয়সও ছিল কম,অর্থাৎ শিশু।

ঢাকা, একে, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর