দক্ষিণাঞ্চলের নদনদী ও সাগরে গত বছরের চেয়ে এবার তিন ভাগের এক ভাগ ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। গত বছর জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৪৭ টন। এবার ৩৭ হাজার ১৩৮ টন ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে।

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত (২২ দিন) সারাদেশে এই মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয় ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিবছরের মতো এ বছরও ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

আজ (০৩ অক্টোবর) রোববার মধ্যরাত থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। গত ২২ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: ইফতেখার হোসেন এই তথ্য জানান।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। আর সরকারি হিসেবে জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ হাজার কোটি টাকা, যা প্রতি বছর বাড়ছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর এবং এ সময়ে জেলেদের সহায়তা দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২২ দিন গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সমুদ্র মোহনায় কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নদনদী ও সংলগ্ন সাগরে এবার গত বছরের চেয়ে তিন ভাগের এক ভাগ ইলিশ আহরিত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় জানিয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বিভাগের মোকামগুলোতে ৩৭ হাজার ১৩৮ টন ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। গত বছর জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৪৭ টন। এ তিন মাসের হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার ৭০ হাজার ৮৩৬ টন কম ইলিশ কেনাবেচা হয়েছে।

দক্ষিণের নদনদীতে ইলিশ কম পাওয়া প্রসঙ্গে চাঁদপুর ইলিশ গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদনদীর নাব্য কমে যাওয়া এবং দূষণের কারণে সাগর থেকে নদনদীতে ইলিশ আসা দুই বছর ধরে কমে গেছে। এ বছর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলেদের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারও এর জন্য দায়ী। ইলিশসম্পদ বাঁচাতে এ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। এ সময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে।”

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল কুদ্দুস জানান, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরলে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। তা ছাড়া এ সময়ে মা ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে।

এমবি