শেরপুর পৌরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের বিরুদ্ধে বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট ও কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ ওঠেছে।

একইসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগও করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুর রাজ্জাক আশীষ মঙ্গলবার বিকেলে শেরপুর শহরের রঘুনাথ বাজার এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রাজ্জাক আশীষ অভিযোগ করে বলেন, আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বিএনপির নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ সরকারি দলের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে পুলিশ গত সোমবার রাতে বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট ও কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরপাকড় ও হয়রানি করছে। ইতিমধ্যে গত সোমবার রাতে বিএনপি প্রার্থীর ১১ জন নির্বাচনী এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছয় জনের নাম পাওয়া গেছে।

পুলিশের এ ধরণের হয়রানিমূলক কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্যই পুলিশ সরকারি দলের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। তিনি অবিলম্বে এ ধরনের হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার বন্ধের দাবি জানিয়ে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী কাজ করার জন্য পুলিশের প্রতি আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় হুইপ ও শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আতিউর রহমান ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাতেমাতুজ্জোহরা শ্যামলী আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করে এলাকায় অবস্থান করছেন এবং প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

আব্দুর রাজ্জাক এ ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত থাকার জন্য দুই সংসদ সদস্যের প্রতি আহবান জানান। আব্দুর রাজ্জাকের অভিযোগ অস্বীকার করে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. মেহেদুল করিম আজ মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, নির্বাচনে সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের পরিকল্পনা করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কোন প্রার্থীর পক্ষ হয়ে পুলিশের কাজ করার প্রশ্নই আসে না। নির্বাচনে আইনশৃক্সক্ষলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পাল আব্দুর রাজ্জাকের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিএনপি প্রার্থী রাজনৈতিক কূট কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। এজন্য তিনি হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। চন্দন বলেন, হুইপ আতিউর রহমান ও ফাতেমাতুজ্জোহরা দুজনেই শেরপুর পৌরসভার ভোটার। তাই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার জন্য তাঁরা এখন শেরপুরে অবস্থান করছেন। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার বা কোন ধরনের নির্বাচনী কাজের সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট নন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. মাহমুদুল হক, যুগ্ম আহবায়ক মো. হযরত আলী, মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন, আউয়াল চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান পলাশসহ দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ