নীলফামারী জেলায় সুমি বেগম (১৫) নামে গৃহকর্মীকে হত্যা করে মির্জা জুনায়েদ হাসান নামে ১৫ মাস বয়সী শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার বিকালে নীলফামারী শহরের থানা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহকর্মী সুমি জেলার জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের আরাজী বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল্লাহর।

আর অপহৃত শিশু মির্জা জুনায়েদ হাসান একই উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মির্জা জাকারিয়া বেগ।

পুলিশ সূত্র জানায়, জুনায়েদের পালিত বাবা মির্জা নুর মোহাম্মদ বেগ ফেমা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে এবং মা শিরিন জাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

জুনায়েদের বাবা বাড়িতে না থাকায় মঙ্গলবার সকালে তার মা জুনায়েদ ও বাড়ির গৃহকর্মী সুমি বেগমকে বাড়িতে রেখে স্কুলে যান। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শিরিন বেগম বাড়িতে এসে মূল গেটের দরজা খোলা পান।

পরে তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে বাথরুমের ভেতর গৃহকর্মী সুমির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তবে তাদের ছেলে জুনায়েদকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জুনায়েদের মা শিরিন জাহান বলেন, আমার স্বামী রাতে অফিসের কাজে নীলফামারীর বাহিরে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জুনায়েদ ও কাজের মেয়ে সুমিকে বাড়িতে রেখে স্কুলে যাই আমি। সোয়া ৫টার দিকে বাড়িতে ফিরে বাড়ির মূল দরজা খোলা দেখতে পাই।

তিনি বলেন, পরে ভেতরে গিয়ে সব কক্ষে খুজে সুমি ও জুনায়েদকে কোথাও খুঁজে পাইনি। আর সুমির লাশ পড়ে থাকতে দেখি।

এদিকে ঘটনার পর নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাতেম আলী, সহকারী পুলিশ সুপার শফিউল ইসলাম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান পাশা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বাবুল আকতার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান পাশা বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। আমরা ধারণা করছি শিশুটিকে অপহরণ করার সময় গৃহকর্মী সুমি হয়তো অপহরণকারীদের দেখে বা চিনে ফেলায় তাকে হত্যা করা হতে পারে।

বুধবার সকালে লাশের ময়নাতদন্ত করার জন্য মর্গে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। আর ‍অপহৃত শিশুটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা, ২০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ