নো পিস উইদাউট জাস্টিস একটি খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক সংস্থা যা ১৯৯৩ সাল থেকে মানবাধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
নিউইয়র্ক, ব্যাসেলস এবং রোম ভিত্তিক একই সংস্থাটি (এনজিও কোয়ালিশন ফর দ্যা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট) এর স্টিয়ারিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
সংস্থাটি গতকাল এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেয়া মৃত্যুদন্ডের বিষয়ে বলেন-
গত ৩ নভেম্বর প্রদত্ত রায়ে বাংলাদেশের আপীল বিভাগ ট্রাইবুনালের রায় বহাল রেখে জনাব কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করেছে। সর্বশেষ এই রায়টি ট্রাইবুনালের আরো একটি বিতর্কিত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা ট্রাইবুনালের স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে যারা সন্দেহ পোষণ করেন এবং নিয়মিতভাবেই উদ্বেগ জানান, সেই সব মহল এই রায়ে নতুন করে অবিচারের সন্ধান পাবেন।
তবে বাংলাদেশ সরকার বরাবরই এই ধরনের প্রতিবাদ ও উদ্বেগকে অগ্রাহ্য করে এই বিচারকাজ পরিচালনা করেছে। যার ফলে অনেকের মনে এই ধারনা ক্রমশ আরও বদ্ধমুল হচ্ছে যে, অতীতের ক্ষত সারিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, বরং এই ট্রাইবুনালের জন্মই হয়েছে বিরোধীপক্ষকে দমন করার জন্য এবং তাদেরকে ক্রমশ আরও চাপে রাখার জন্য।
এই দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়, যখন কামারুজ্জামানকে তড়িঘড়ি করে কাশিমপুর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কেননা এই স্থানান্তরকে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করারই পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সবাই।
এই অবস্থায়, নো পিস উইদাউট জাস্টিস, নন ভায়োলেন্ট রেডিকাল পার্টি এবং ট্রান্সিশনাল এন্ড ট্রান্সপার্টি রিভিউ আবেদন জমা এবং প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাসহ জনাব কামারুজ্জামানের সব রকমের আইনী অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যৌথভাবে আহবান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে, জনাব কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়াকে স্থগিত করে তাকে সকল আইনী সুযোগ ও অধিকার প্রদান করা। সেই সাথে মৃত্যুদন্ডাদেশ বাতিলের ব্যপারেও সরকারের চিন্তা করা উচিত।
নো পিস উইদাউট জাস্টিস, নন ভায়োলেন্ট রেডিকাল পার্টি এবং ট্রান্সিশনাল এন্ড ট্রান্সপাটি মনে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া পূর্বের অন্যায় ও অপরাধের সুরাহা করার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সুযোগ।
তবে বর্তমানে এটি যেভাবে চলছে তাতে একে রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানোর হাতিয়ার ছাড়া ভিন্ন কিছু ভাবার সুযোগ নেই। কেননা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যেসব প্রশ্ন ও উদে¦গ বিচারের ক্ষেত্রে তোলা হয়েছে, তার কোন সমাধান দিতে ট্রাইবুনালের মত আপীল বিভাগও ব্যর্থ হয়েছে।
যে সব ইতোপূর্বেই এই বিচারিক প্রক্রিয়ার ব্যপারে তোলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, বিচারকদের সুষ্ঠু বিচারের নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরন না করা, বিচারকদের ইচ্ছেমতো আসামী পক্ষের স্বাক্ষী সীমিত করন এবং নিরপেক্ষ না থেকে বরং অভিযুক্ত কামারুজ্জামানের ব্যপারে আগে থেকেই একটি খারাপ ধারনা পোষণ করা।
এক কথায় বলা যায়, ১৯৭১ এর আহত নিহত মানুষ ও তাদের পরিবারের প্রতি ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য তা অর্জনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ব্যর্থ হয়েছে। বরং তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে বিরোধী দলের উপর নিপীড়ন চালানোর জন্য ক্ষমতাসীনদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
এমতাবস্থায় নো পিস উইদাউট জাস্টিস, নন ভায়োলেন্ট রেডিকাল পার্টি এবং ট্রান্সিশনাল এন্ড ট্রান্সপাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কার্যক্রমের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। আর একই সংগে তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ট্রাইবুনালের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্যও আহবান জানানো হচ্ছে।
ইতোপূর্বে স্যার ডেসমন্ড ডে সিলভা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সীমাবদ্ধতা এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতার বিষয়ে যে আশংকা প্রকাশ করেছিলেন তাই এখন ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। অর্থাৎ জাতীয় ঐক্য নয় বরং এই পক্ষপাতমূলক বিচার জাতিকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করতে যাচ্ছে।
এই সংকট থেকে উত্তরন পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে এমন একটি ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠা করা যাতে বাংলাদেশের বিচারপ্রার্থী মানুষেরা সত্যিকার অর্থেই ন্যায় বিচার লাভ করে।
এসএইচ





