খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ প্রতিনিয়ত বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় গিয়ে তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে। মূলত পরাজয় ঠেকাতে সরকার পুলিশ দিয়ে এগুলো করাচ্ছে বলে জানিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী এ অভিযোগ করেন। যদিও অভিযোগটি অস্বীকার করে পুলিশ।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, গত মঙ্গলবার থেকেই আমাদের প্রায় ২০০ নেতা-কর্মীর বাসায় পুলিশ দ্বিতীয় দফায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে পুলিশ প্রায় ১০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
পাঁচটি থানায় এই সাঁড়াশি অভিযানে শত শত পুলিশ অংশ নিয়েছে বলেও জানায় বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আরো অভিযোগ করেন, ‘গতকাল রাত সোয়া ১টায় মহানগর বিএনপির সহসম্পাদক একরামুল কবির মিল্টনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁর স্ত্রী (ফোনে) কেঁদে কেঁদে বলছে, তাঁর স্বামীকে (মিল্টন) বলা হচ্ছে, ওসি সাহেব দেখা করতে বলেছেন। ওয়ারেন্ট, মামলা কিছুই নেই, কেন দেখা করবে? আমি বললাম, আপনি পুলিশকে জিজ্ঞেস করেন যে কোনো ওয়ারেন্ট আছে কি না। পুলিশ বলছে কোনো ওয়ারেন্ট নেই, ওসি সাহেব তাঁকে ডেকেছেন।’
তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বাস দিতে গিয়ে বলেন ‘পুলিশ ধরপাকড় চালাবে, নির্বাচনী কাজও ইনশাআল্লাহ চলবে। এই যুদ্ধে যদি কেউ না থাকে, তাহলে আমি একাই থাকব। আমি সবাইকে বলছি, সময়মতো বেরিয়ে আসুন।’
এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন এক পুলিশের মুখপাত্র বলেন, ‘গতকাল রাতে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে দলীয় কতজন আছে, সেটা দেখা হচ্ছে। সবার পরিচয় হয়তো ১০-১১টার দিকে বলতে পারব।’
বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এটা নিয়মিত অভিযান। নিয়মিত অভিযানে এ ধরনের গ্রেপ্তার থাকে।
আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তালুকদার আবদুল খালেক। গত নির্বাচনে এই সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিলেন। এবার প্রার্থী পরিবর্তন করেছেন দলটি।
জেড





