[b]ঢাকা:[/b] খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির হার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রেক্ষিতে এক বছরের ব্যবধানে এসব পণ্যের ঋণপত্র খোলার এবং নিষ্পত্তির হার বেড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে ব্যাংকগুলোর এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে খাদ্যপণ্য আমদানির পরিমাণ তুলনামূলক বেড়েছে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের নজরে আসায় এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস শেষে (জুলাই-নভেম্বর) চাল ও গম আমদানির জন্য যথাক্রমে ৭৩০ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ৩৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের নভেম্বর শেষে চাল আমদানিতে ১০ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়েছে। এ সময়ে এসব পণ্যে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে আট কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময় ছিল যথাক্রমে এক কোটি ১৬ লাখ ডলার এবং এক কোটি ছয় লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। সে হিসেবে এক অর্থবছরের ব্যবধানে চাল আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে ৭৩০ দশমিক ১০ শতাংশ এবং নিষ্পত্তিতে বেড়েছে ৭২৯ দশমিক ৯১ শতাংশ ।
এদিকে গম আমদানিতে আলোচ্য সময়ে ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ মার্র্কিন ডলারের ঋণপত্র খোলা হলেও একই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ৫১ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের নভেম্বর শেষে ছিল ৩৩ কোটি ৬২ লাখ এবং ২৮ কোটি ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে গম আমদানিতে ৩৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ঋণপত্র খোলার হার বাড়লেও নিষ্পত্তি বেড়েছে ৮০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৯ সালের পরবর্তীতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বাংলাদেশ। এ খাতের সংশ্লিষ্টদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত থেকেও সহায়তা করা হচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে কৃষি ঋণ। কৃষকপর্যায়ে যথাযথভাবে এ ঋণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও নেওয়া হচ্ছে নানামুখী উদ্যোগ। কিন্তু তারপরও এসব পণ্যের আমদানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিস্মিত গভর্নর নিজেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ। বিদায়ী বছরে খুব একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশে পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে ফসলও নষ্ট হয়েছে কম। কিন্তু তারপরও খাদ্যশস্য আমদানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রীতিমতো সন্দেহের বিষয়। এর পেছনে অর্থপাচার জড়িত আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ এসব পণ্য আমদানি করতে কোনো শুল্ক দিতে হয় না। ফলে আমদানির আড়ালে অর্থ পাচারের একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা। তারা বলছেন, নির্বাচনী বছরে ব্যবসায়ীরা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে দেশের বাইরে এসব আমদানির আড়ালে অর্থপাচার করতে পারেন।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]