চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ষষ্ঠ দফায়ও ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে চায়। প্রয়োজনে স্থানীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে ভোট কেন্দ্র দখলসহ তারা যেকোন সহিংসতা ঘটাতে পারে। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এমনটাই জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সোমবার দেশের ১২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ দফায় ১২ উপজেলায় চেয়ারম্যান,   ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ১৭৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে (পুরুষ) ৬৯ জন  ও  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা  করছেন।
তবে এ দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের বেশিরভাগই বিদ্রোহী। যারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন না  পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে বিদ্রোহীদের সংখ্যাটা আওয়ামী লীগেই বেশি। দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি প্রতি উপজেলায় গড়ে ২ জন করে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করবে। এমনকী স্থানীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে ভোট কেন্দ্রদখলসহ  যেকোন মূল্যে নিজের বিজয় নিশ্চিত করার  চেষ্টা করবে। একইসাথে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীরা দলকে তাদের জনপ্রিয়তা দেখাতে সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ভোট কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করবে।
এরইমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভাড়া করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। যারা নির্বাচনী ১২ উপজেলায় এসে অবস্থান নিয়েছে।  ভোটের দিন আওয়ামী লীগ সমর্থিত  প্রার্থীদের ও বিদ্রোহীদের পক্ষে  কাজ করবে। এতে করে আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের  মধ্যে ব্যাপক সহিংসতার  ঘটতে পারে।
এছাড়া ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মীরা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে বিদ্রাহী, স্বতন্ত্র ও ১৯ দলীয় জোটের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেয়াসহ ব্যাপক সহিংসতা ঘটাতে পারে। পাশপাশি সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যাতে না পারে তার জন্য ভোটের আগের দিন থেকে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়েছেন। আর এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতেও গোয়ন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গোয়ন্দা সংস্থার এ তথ্য পাওয়ার পর বিষয় নিয়ে  টেনশনে  রয়েছে নির্বাচন কমিশন(ইসি)।
এ বিষয়ে  নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারি সচিব আশফাকুর রহমান বলেন, ১২ উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া  কেউ যদি ভোট কেন্দ্র দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে চায় তাদের কঠোর হস্তে দমন করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আশাকরি নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে  নির্বাচন সম্পন্ন হবে।  
এ বিষয়ে  নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসি থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে এসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহন বন্ধ করে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
[b]ঢাকা, এএম, ১৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]