চতুর্থ ও পঞ্চম দফার স্থগিত ৫ উপজেলার ১৯ টি কেন্দ্রের পুনভোট গ্রহণ বুধবার । আর এ পরিপ্রেক্ষিতে সদ্য সমাপ্ত চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের পাঁচ দফায় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তার চেয়ে কয়েকগুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে ৫ উপজেলায় । এমনকি এ ১৯ টি পুনভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্মরণকালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আর তাই খোদ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, 'মশা মারতে এবার ইসি কামান দাগাচ্ছে'।
ইসি সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা গত রোববার সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ও তার নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ইসিতে আবেদন করেছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমিরুল ইসলাম নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে ভাড়াটে গুন্ডা বাহিনী দিয়ে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি নিজের জীবন ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কিত বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন।
এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন ও নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন সিলেটের কানাইঘাট, কক্সবাজরের কুতুবদিয়া ও পটুয়াখালীর দুমকির ১৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর পরিপ্রেক্ষিতে চতুর্থ ও পঞ্চম দফার স্থগিত ১৯ কেন্দ্রের পুনঃভোটগ্রহণে স্মরণকালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এ বিষয়ে ইসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ভোটের আগের দিন মঙ্গলবার থেকেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে নির্বাচনী এলাকা। পাশাপাশি চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মাঠে থাকবে ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে এক প্লাটুন বিজিবি ও একটি র্যা বের মোবাইল টিম থাকছে। এছাড়াও প্রতি কেন্দ্রে পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসারের পৃথক টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।
তিনি আরো বলেন, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও ভোট কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক অবস্থান করবে। আর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ও প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ছোট কয়েকটি কেন্দ্রের নির্বাচনের জন্য বড় আয়োজন করেছে ইসি।
ইসি সূত্র জানায়, ভোটের গ্রহণের দিন(বুধবার) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ৯টি, সিলেটের কানাইঘাটের একটি, কুমিল্লার বরুড়ায় দুটি, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় দুটি ও পটুয়াখালীর দুমকির পাঁচটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দিয়ে ঢেকে ফেলা হবে। বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোববার চিঠি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত বিজিবি, র্যা ব ও পুলিশ মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এ নির্বাচনে এবারই প্রথম প্রতি কেন্দ্রে ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক থাকবে।
এদিকে ৫ উপজেলায় স্থগিত ১৯ কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ৯টি কেন্দ্রকে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে বালুয়াকান্দি আবদুল গাফ্ফার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ২৫ পুরাচক বাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৮ আলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০ নং কৈক্ষারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গজারিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও বাঘাইকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রেফায়েতউল্লাহ খান তোতা আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থী আমিরুল ইসলামের চেয়ে প্রায় ১২ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, স্থগিত বিভিন্ন উপজেলার ১৯ টি ভোট কেন্দ্রে কাল (বুধবার) ভোট গ্রহণ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রার্থী সুষ্ঠু নির্বাচন ও তাদের জীবনের চেয়ে আবেদন করেছেন। আর একারনে এ নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যাপক সহিংসতা, ভোট জালিয়াতি ও নজিরবিহীন কারচুপির মধ্য দিয়ে ৫ দফায় ৪৫৮ টি উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন করে ইসি।
গত ২৩ মার্চ চতুর্থ দফা নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা ও কেন্দ্র দখল ও জালভোটসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৩২টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে বাকি ১৩ টি স্থগিত কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী বিজয়ী প্রার্থী বেশি ভোট পাওয়ায় এ কেন্দ্রগুলোর ভোট না গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন ।যে ৫ উপজেলার ১৯ টি কেন্দ্রে ভোট হবে সেগুলো হলো- সিলেটের কানাইঘাট, কুমিল্লার বরুড়া, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, পটুয়াখালীর দুমকী ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া।
[b]ঢাকা, এ[/b][b][b]এ[/b]ম, ৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসএইচ[/b]
মশা মারতে এবার ইসির হাতে কামান
চতুর্থ ও পঞ্চম দফার স্থগিত ৫ উপজেলার ১৯ টি কেন্দ্রের পুনভোট গ্রহণ বুধবার । আর এ পরিপ্রেক্ষিতে সদ্য সমাপ্ত চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের পাঁচ দফায় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তার চেয়ে কয়েকগুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে ৫ উপজেলায় । এমনকি এ ১৯ টি পুনভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্মরণকালের সর্বোচ্চ
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়: জামায়াত
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করাকে বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি এসব ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শপথ পেছানোর চক্রান্ত ইসরাইলে আরব ভোট বাড়াতে কাতার-তুরস্কের অর্থায়নের অভিযোগ
ইসরাইলের নির্বাচনে আরব জনগোষ্ঠীর ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে কাতার ও তুরস্কসহ বিদেশি পক্ষগুলো অর্থ জুগিয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়ন ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ।
ঠাকুরগাঁওয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, উদ্বেগের কারণ নেই: ইসি সচিব
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দেওয়া হয়েছে বডিওন ক্যামেরা।
ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনে কারচুপি হলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ১১ দলের
আগামীকাল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
ইউপি নির্বাচন: ইসির ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, নেওয়া হচ্ছে বেশকিছু পদক্ষেপ
শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আয়োজনের টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মূল লক্ষ্য। একথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।















