বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে ২লাখ ১৮ হাজার ৯০২ মার্কিন ডলার বা প্রায় পোনে ২কোটি টাকার আর্থিক অনুদান দেবে জাপান সরকার। এসডিআই ও জিমার্ক ফাউন্ডেশন নামের দুটি এনজিওর মাধ্যমে এই অনুদান দেয়া হবে। এনজিও দুটিকে যথাক্রমে ১ লাখ ২১ হাজার ৬২৩ ডলার (৯৭ লাখ৩০হাজার টাকা) ও ৯৭ হাজার ২৭৯ ডলার (৭৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা) দেয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা গ্র্যান্ট অ্যাসিসট্যান্স ফর গ্র্যাস-রুটস্ হিউম্যান সিক্যুরিটি প্রোজেক্টস্(জিজিএইচএসপি) এর অধিনে উক্ত এনজিও দুটির প্রতিনিধির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। জাপান দুতাবাসে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়।  
এই প্রকল্পের মাধ্যমে জিমার্ক ফাউন্ডেশন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রান্তিক চাষীদের ৭ টি সমবায় সমিতির জন্য ৭টি উন্নত প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগার(Improved Natural Storage, INS) নির্মাণ করবে যার মাধ্যমে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে তুলানমুলক স্বল্প ব্যয়ে, অপচয় রোধকরে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের ফসল সংরক্ষণ করা যাবে। জিমার্ক ফাউন্ডেশন প্রকল্পটি সচল রাখার নিয়মিত খরচ শুধুমাত্র সুবিধাভোগীদের সেবামুল্য থেকে পরিচালনা করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জিমার্কের নির্বাহী পরিচালক, জনাব মোঃ সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন “ সংরক্ষানাগার (INS) এর তাপমাত্রা, ফসলের জলীয় অবস্হা ও আর্দ্রতা প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যা গুনাগুণ অক্ষুন্ন রেখে দীর্ঘ সময় ধরে কম খরচে আলু সংরক্ষণ করতে সহায়তা করবে। ফলশ্রুতিতে কৃষকদের নিট মুনাফা বৃদ্ধি পাবে।”
অপরদিকে, জাতীয় পর্যায়ের এনজিও এসডিআই উক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ধামরাইতে একটি কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করবেন যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী খামার এবং প্রান্তিক চাষীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা। ফলো-আপ সেবার সমন্বয়ে গৃহীত প্রশিক্ষণ, কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও ফসলে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের দক্ষতা প্রদান করবে। উপরোক্ত,পরিবেশবান্ধব কীট-পতঙ্গ দমনের কলাকৌশল ও জৈবসার তৈরি ও প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে শাক-সবজি চাষ করে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ভুমিকা রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
এসডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক, সামসুল হক উল্লেখ করেন, “শতকরা ৮৫ ভাগ গরিব জনগোষ্ঠী গ্রামে বাস করেন এবং তাঁদের জীবিকার প্রধান উপায় কৃষি। আমরা আশাকরি, এই অবস্হার উন্নয়নে আমরা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হব।”  
জাপানি রাষ্ট্রদূত সংস্থা দুটিকে উৎসাহ প্রদান করে বলেন, “বাংলাদেশের শতকরা ৪৪.৪ ভাগ লোক কৃষিকাজে নিয়োজিত। জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ২০ ভাগ। কৃষি উৎপাদনে রয়েছে অতিরিক্ত মাত্রার কিটনাশক-বিঁষের ভীতিকর প্রয়োগ। এক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও কার্যকারিতা উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
জাপান সরকার ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য জিজিএইচএসপির মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। ইতোমধ্যে এই স্কীমের আওতায় সর্বমোট ১৮০টি প্রকল্পে সর্বমোট ১৩,৮৯০,১৪৮ মার্কিন ডলার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
[b]ঢাকা, ১৩ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]