সামরিক বাহিনীর পক্ষাবলম্বীরা এই যুক্তি দিয়ে থাকেন যে ব্যাপকভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যয় মার্কিন অর্থনীতির জন্য মঙ্গলময়। এটা মিথ্যা কথা। সামরিক ব্যয়ের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীরা এর অনুকূলে একটি শক্তিশালী খাত তৈরি করলেও প্রকৃতপক্ষে অনেক ছোট প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়েই মার্কিন অর্থনীতি সার্বিকভাবে আরো বেশি শক্তিশালী হবে। সামরিক বাজেট ছাঁটাই করার ফলে সম্পদ হ্রাস ও চাকরি সাময়িকভাবে কমে গেলেও বিকল্প জ্বালানি উৎস নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন, জাতীয় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ইত্যাদিতে খাতে কাঙ্খিত অর্থ যোগানো গেলে অনেক কম সময়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সম্পদ সৃষ্টি ও চাকরির সংস্থান হবে। চাঁদার টাকা ওল্ড শিকাগোর মাস্তানদেরই দেয়া হোক কিংবা আধুনিক আমেরিকার ঠিকাদারদেরই দেয়া হোক, তা শুধু ‘রাকর্তার’ পকেটই ভারী করে।
প্রতিরক্ষা ব্যয় অন্য খাতে সরিয়ে নিলে কিছু সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে। অনেক শ্রমিক চাকরি হারাবে ও দেশের কোনো কোনো বিশেষভাবে অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষায়িত দক্ষতা ও সরঞ্জামের দ্রুত অবমূল্যায়ন হতে পারে। সামগ্রিক চাহিদা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার সাময়িক ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তবে ব্যক্তিবিশেষের প্রকৃত কষ্ট ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে লাঘব যায় বা এমনকি চাকরিচ্যুতরা নতুন কোথাও চাকরি না পেলে বা কেউ তাদেরকে তাদের নতুন যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ না করা পর্যন্ত সবাইকে তাদের বেতনের ৮০% বেতন দেয়ার মতো বিভিন্ন উদ্ভাবনমূলক সাময়িক কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশের বিশাল শিল্প-সামর্থ্য অতিদ্রুততার সঙ্গে শান্তিকালীন অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছিল এবং পরিণতিতে আমেরিকার ‘সোনালি যুগের’ সৃষ্টি হয়েছিল।
আমি বিশ্বাস করি, প্রাথমিক সমস্যার পর আমরা আরো অনেক সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত হব। সামরিক বাজেট থেকে ছাঁটাই করা অর্থ আমাদের নগরীগুলো পুনর্গঠন করা, আমাদের সব নাগরিকের জন্য রুচিসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করা, আমাদের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন করা এবং আরো অনেক আর্থিকভাবে সমস্যায় থাকা ‘অবকাঠামোগুলো’ উন্নয়নে ব্যয় করতে পারি। অতীত অভিজ্ঞতা এই ধারণাই সমর্থন করে যে অভ্যন্তরীণ ব্যয় অনেক বেশি বাড়িয়ে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে আরো বেশি প্রবৃদ্ধিতে নিয়ে যেতে পারি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কোরিয়ান যুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর দেখা গেছে অর্থনীতি অত্যন্ত সহজে শান্তিকালীন উৎপাদনে রূপান্তরিত হয়েছে।
একটি বিশেষ বিষয় হচ্ছে গবেষণা ও উন্নয়ন শিল্পে বাজেট হ্রাসের সম্ভাব্য প্রভাব। প্রতিরা দফতর গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যবহৃত অর্থের অর্ধেকের বেশি বিমান, বৈদ্যুতিক ও যোগাযোগ সরঞ্জামের মতো উচ্চ-প্রযুক্তির শিল্পে ব্যয় করে।
তাই সামরিক বাজেট হ্রাস করা হলে অন্য যেকোনো পেশাগত গ্রুপের চেয়ে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা বেশি সংখ্যায় চাকরি হারাবে। অবশ্য বর্তমান বিশ্বে আমরা কারিগরিভাবে এগিয়ে থাকায় এসব প্রতিভা বিভিন্ন নতুন প্রকল্পে যোগ দেয়ার সুযোগ পাবে।
পরিবেশ ও জ্বালানি সঙ্কট নিরসনে আমি ৬ষ্ট অধ্যায়ে যেসব উদ্যোগের কথা বলেছি তাতে নিজেদের ও আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সব বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সম্পদের ব্যবহারের সম্ভাবনা ফুটে উঠেছে। এই সমাধানের একটি উদাহরণ হতে পারে ২০০৭ সালের ১০ অক্টোবরের মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎবিষয়ক ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্পেস অফিসের প্রতিবেদন। মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়নের চেষ্টা দ্রুত করার জন্য যে দক্ষতাসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলীর প্রয়োজন, তা বর্তমানে কম্পিউটার, রকেট, সেন্সর, অত্যাধুনিক সামগ্রী ইত্যাদি সামরিক ব্যবস্থা উন্নয়নে নিয়োজিতদের দক্ষতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এই প্রতিবেদন অনুযায়ী বলা যায়, এসবিএসপি উন্নয়নের মাধ্যমে কয়লার চেয়ে কম মূল্যে কার্বনমুক্ত বৈদ্যুতিক জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব। এসবিএসপি’র পরিপূর্ণ উন্নয়নের জন্য চাঁদে খনি খনন ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হতে পারে। তবে তা বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারের জন্য নয়, বরং তেলের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে আমাদের দেশ ও বিশ্বকে রা করতে। এটা জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণায়নও মোকাবেলা করবে।
সামরিক ব্যয় হ্রাসের শুরুতে যারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের কাছ থেকে এই প্রস্তাবটি প্রতিরোধের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাকরি হারানোর ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগের কারণটি উপলব্ধি করা যায় এবং কোনো শহরের প্রধান শিল্পই যদি হয় সামরিক ঘাঁটি বা প্রতিরা ঠিকাদারি তবে তা খুবই সঙ্গত দুশ্চিন্তা। আমরা আপতকালে আর্থিক সহায়তা ও সেখানে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার মাধ্যমে তাদের সাহায্য করতে পারি। আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, সামরিক বাহিনী খুবই মূল্যবান বিশাল এলাকা দখলে রেখেছে। আমরা এসব ভূমি বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে, শিল্পপার্ক, শিাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে, বাড়ি-ঘর বানানোর কাজে ব্যবহার করতে পারি। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এসব কাজ করতে পারলে এসব স্থাপনা পুরোপুরি শান্তিকালীন অর্থনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত অনেক শহর ও নগরের পুনর্জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
সামরিক পুনর্গঠন ও বিদেশের প্রায় ৭০০ সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে তা মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘাঁটি শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। ১৩০টিরও বেশি দেশে আমাদের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের যৌক্তিকতা প্রতিপন্ন করতে গিয়ে আমরা বিশ্বের পুলিশে পরিণত হয়েছি। এটা আমাদের নেতাদের অযথা গর্বিত করতে পারে, কিন্তু গড়পড়তা আমেরিকানদের জন্য সামান্যই কল্যাণ বয়ে আনছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, সামরিক রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণে আনার অনেক পন্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকে সেই চেষ্টা করেছেও। কিন্তু সামরিক শকুনিরা তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং আমরা যেসব হুমকির মুখোমুখি হচ্ছি সে সম্পর্কে তারা মোটেই অবগত নয় বলে বিদ্রুপ করেছে। এই যুদ্ধবণিকেরা ৫০ বছর ধরে আমেরিকাকে আতঙ্কে ফেলে রেখেছে। সংস্কৃতিকে সামরিকরণ এবং আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিপদ সম্পর্কে উদাসীন করে তোলা হয়েছে। আমাদেরকে অবশ্যই দৃঢ়তার সঙ্গে যুক্তির পথে ফেরার আহ্বান জানিয়ে যেতেই হবে যতণ পর্যন্ত না জনগণ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে জাতি হিসেবে আমরা কোথায় পৌঁছেছি এবং বলে, ‘যথেষ্ট হয়েছে, আর না।’
* সিনেটর মাইক গ্রাভেল ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এটি তার সিটিজেন পাওয়ার গ্রন্থের আমেরিকান ইম্পেরিলিজম থেকে নেয়া।
[b]ঢাকা, এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এফএ[/b]
যুদ্ধবণিকেরা ৫০ বছর ধরে আমেরিকাকে আতঙ্কে রেখেছে
সামরিক বাহিনীর পক্ষাবলম্বীরা এই যুক্তি দিয়ে থাকেন যে ব্যাপকভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যয় মার্কিন অর্থনীতির জন্য মঙ্গলময়। এটা মিথ্যা কথা। সামরিক ব্যয়ের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীরা এর অনুকূলে একটি শক্তিশালী খাত তৈরি করলেও প্রকৃতপক্ষে অনেক ছোট প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়েই মার্কিন অর্থনীতি সার্বিকভাবে আরো বেশি শক্তিশালী হবে।
দ্য গার্ডিয়ান হরমুজ প্রণালিকে ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ মনে করেন ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালিকে ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভারত-আমেরিকা কারও আধিপত্য মেনে নেব না : নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। এবার আমরা দুটি ভোট দিয়েছি, কিন্তু এখনো গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হয়নি। আপনারা যারা প্রথমবার হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন, আপনাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। গণঅভ্যুত্থান হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য। আমরা কারোরই আধিপত্য মেনে নেব না—ভারতেরও না, আমেরিকারও না।
হরমুজ প্রণালি আমেরিকার খেলার মাঠ নয়: ইরানি সামরিক বাহিনী
ইরানের সামরিক সদর দপ্তর সতর্ক করেছে যে, সব বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে যাতায়াতের জন্য ইরানের নির্ধারিত সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় পরিণতি ভোগ করতে হবে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আমেরিকা-ইরান চুক্তি: মধ্যস্থতা করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ধুঁকতে থাকা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে একটি যুগান্তকারী চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বলিষ্ঠ মধ্যস্থতা সোমবার বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্বনেতারা এ ঐতিহাসিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
যেভাবে ধনী হচ্ছেন আমেরিকার অনেক মানুষ
১৯৯৪ সালে গ্রেগ ফ্লিন যখন বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করেন, তখন আমেরিকায় ‘ডটকম’ বা ইন্টারনেট বিপ্লবের জয়জয়কার। তার সহপাঠীরা সবাই বড় বড় করপোরেট সংস্থায় যোগ দিয়ে রাতারাতি কাগজে-কলমে ‘মিলিয়নিয়ার’ বনে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফ্লিন হাঁটলেন ভিন্ন পথে। এক বন্ধুর রেস্তোরাঁ ব্যবসায় সাহায্য করতে যোগ দিলেন তিনি। এর কয়েক বছর পর আমেরিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার দারুণ অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফ্লিন নিজেই আটটি ‘অ্যাপলবিস’ রেস্তোরাঁ কিনে নেন।
















