২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাচনের অযোগ্য করে সরকার আরেকটি সাজানো নির্বাচন করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার বিকেলে ব্রাক্ষণবাড়িয়া নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয় এমন একটি সরকার জনগণের বুকের ওপর জগদ্দল পাথরের বুকের ওপর চেপে বসে আছে। এই সরকার বন্দুকের নলের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছে। তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে সংবিধান সংশোধন করে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা অবৈধ সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে।
সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, একের পর এক ২০ দলের নেতাকর্মীদের নামে-এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তারেক রহমানের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়।
এই সরকার গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এদের উদ্দেশ্য খুব খারাপ। একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে একের পর এক সংবিধান পরিবর্তন করছে।
তিনি বলেন, জনগনের পকেটের টাকা নিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করে ১৮০ জন প্রতিনিধি নিয়ে জাতিসংঘের ৬৯তম প্রতিনিধি সভায় যোগ দিয়েছেন। এটা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয় বলে দাবী করেন তিনি। এর মধ্যে নয় জন মন্ত্রী তাদের স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজন রয়েছেন। এমন কি একজন সনদ জালিয়তিকারী ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছেন।
সরকার লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করছে মন্তব্য করে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, আপনারা এই সরকার আর ক্ষমতায় দেখতে চান? তখন উচ্চস্বরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা না বলেন। এই অবৈধ সরকারকে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
র্যাবের বিলুপ্ত দাবি করে তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রথম আলো প্রত্রিকায় নারায়নগঞ্জের ঘটনায় র্যাবের কর্নেল জিয়া আহসানের জড়িত বলে নাম প্রকাশ করেছে। অবিলম্বে জিয়াকে বরখাস্ত করে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, মো. সালাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। এছাড়াও সভায় ২০ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা, এমএইচ, ২৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





