রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হওয়া সত্ত্বেও দেশে ক্যাসিনো, মদ, জুয়া, যেনা-ব্যাভিচারের মতো ইসলামবিরোধী কাজ অশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রূপনগরে চলন্তিকা বস্তিতে ক্ষতিগ্রস্থদের খোঁজ নেয়ার সময় স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময়কালে তাৎক্ষণিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, রূপনগর থানা আমীর নাসির উদ্দীন, জামায়াত নেতা জামাল উদ্দীন, মোশাররফ হোসেন ও লিয়াকত আলী প্রমূখ।
মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “ক্ষমতাসীনদের উপর্যুপরি ব্যর্থতার কারণে দেশে অপরাধ এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। দেশ ও জাতিকে এই ভয়াবহ অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে হলে জাতি-ধর্ম, বর্ণ-গোত্র ও দলমত নির্বিশেষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় আমাদের জাতিস্বত্ত্বা, ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের স্বাতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব হবে না।”
মহানগরী আমির বলেন, “ইসলামে মদ, জুয়া, ব্যাভিচার ও পাশা খেলাকে সরাসরি হারাম করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কালামে হাকীমে ঘোষণা করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের নাপাক কর্ম বৈ কিছুই নয়। অতএব তোমরা এগুলো থেকে বিরত হও। তাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হবে। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে পরস্পরে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত হতে তোমাদেরকে বাধা প্রদান করতে। অতএব তোমরা নিবৃত হবে কি?’ (সুরা আল মায়েদাহ-৯০-৯১)”
তিনি বলেন, “হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ার মদ পান করেছে কিন্তু তওবা করেনি সেই ব্যক্তি আখিরাতে তা থেকে বঞ্চিত থাকবে (সহীহ আল বোখারী-৫১৬২, তিরমিযী-১৮৬৭)। তাই রাষ্ট্রীয় সংবিধান ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় অবিলম্বে এসব পাপাচার বন্ধ করতে হবে।”
সেলিম উদ্দিন বলেন, “দেশে অবক্ষয় ও অনৈতিকতা প্রান্তিকতায় এসে ঠেকেছে। শেয়ারবাজার, ব্যাংক, কয়লা, পাথর, পর্দা, বালিশ, টিন, বই, চা, চেয়ার, টেবিলসহ কোনো কিছুই এই অশুভ থাবা থেকে মুক্ত নয়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানে আবিষ্কার হয়েছে শত শত কোটি অবৈধ টাকা, ক্যাসিনো, মদ ও জুয়ার আসর। মূলত সারা দেশেই নির্বিঘ্নেএসব চলছে। বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রীর ‘স্পিডমানি’আর সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর ‘সহনীয় মাত্রা’এবং সেতুমন্ত্রী ‘ছিঁচকে তত্ত্ব’তার বাস্তব প্রমান।”
তিনি বলেন, “বস্তুত রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো দুর্নীতিসহ সকল অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু দেশে অনিয়ম-দুর্নীতি সর্বনাশা রূপ নিলেও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিয়ে রহস্যজনকভাবে নিরব থাকছেন। রূপপুরের ‘বালিস’, ফরিদপুরের ‘পর্দা’আর চট্টগ্রামের ‘টিন’কেলেঙ্ককারী সেদিকেই অঙ্গলী নির্দেশ করে। রেলওয়ে প্রকল্পের ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনের ক্লিনার, সরকারি ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির লাগামহীন দুর্নীতি-লুটপাট সে ভয়াবহতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই দেশকে দুর্নীতি, অবক্ষয় ও অপরাধমুক্ত করতে ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, “মূলত দেশে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠিত না থাকায় দুর্নীতি ও অনাচার সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। ভোগবাদী আদর্শ ও মানবসৃষ্ট মতবাদ ইতোমধ্যেই ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেছে। তাই দেশ ও জাতিকে অপরাধ ও অবক্ষয়মুক্ত করতে হলে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে দেশকে কলাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। মূলত ইসলামের সুমহান আদর্শের মধ্যেই রয়েছে মানবতার ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি। আর নবী-রাসুল প্রেরণের উদ্দেশ্যও ছিল তাই।”
মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন, ‘বস্তুত আমি পাঠিয়েছি আমার নবী-রসূলগণকে এবং তাদের সাথে নাযিল করেছি কিতাব ও মানদন্ড-যেন লোকেরা ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আরো নাযিল করেছি লৌহ। এর মধ্যে রয়েছে বিযুক্ত অনমনীয় শক্তি এবং জনগণের জন্য অশেষ কল্যাণ। আরো এজন্য যে, কে আল্লাহ এবং তার রসূলের অগোচরে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে তাকে যেন আল্লাহ জানতে পারেন। (সূরা আল হাদীদ-২৫) তাই বিশ্বমানবতার মুক্তির জন্য ইসলামের বিজয় অনিবার্য।”
মহানগরী আমির দ্বীনকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
এমবি





