জুলাই যোদ্ধাদের অসম্মান ও কটাক্ত করে কথা বলছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করছে। অথচ এই গণঅভ্যুত্থান না হলে তারা রাজপথ তো দূরের কথা মিডিয়ার সামনেও আসতে পারতো না, পারেনি। যারা নিজেদের নেত্রীর বাসভবেন সামনে থেকে একটা বালুর ট্রাক সরাতে পারেনি তারা নাকি গণঅভ্যুত্থান না হলে কিছুদিন পরে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করত! জনগণের কাছে তাদের এসব কথাবার্তা হাস্যকর। জনগণ তাদের রাজনৈতিক শক্তি সম্পর্কে জানে। রবিবার রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ওয়ারী পূর্ব (৩৯ নং ওয়ার্ড) থানার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সূধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। আবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুরে-সুর মিলিয়ে একটি দল বলছে তারা ক্ষমতায় গিয়ে সংস্কার করবে। তারা একবার বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব সংস্কার তারা মুছে দিবে! আবার বলে তারা ক্ষমতায় গিয়ে সংষ্কার করবে! যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে, তারা কোনভাবেই জুলাই সনদের স্বীকৃতি দিবে না, দিতে পারে না। তারা চায় যেনতেন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে। তারা সংস্কার চায় না, গণহত্যার বিচার চায় না।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নতুন করে ফ্যাসিবাদের অধ্যায় শুরু করার নির্বাচন জনগণ চায় না, জামায়াতে ইসলামীও চায় না। যেটা জনগণ চায়, জামায়াতে ইসলামীও সেটাই চায়। দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় কিন্তু সরকার একটি দলের চাপে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ঘোষণা দিচ্ছে না। যেখানে জরিপে উঠেছে দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায়, সেখানে ঐ একটি দলের নেতা বলছেন, পিআর খায় নাকি মাথায় দেয়! কতটা রাজনৈতিক শিক্ষার অভাব থাকলে একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা এমনটি বলতে পারে তা আর বুঝার বাকী থাকে না। যেই নেতারা এখনো পিআর বুঝে না তাদেরকে রাজনীতি বিষয়ে আরো পড়াশোনা পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আপনি কিংবা আপনার দল পিআর না বুঝলে সমস্যা কোথায়, যেখানে দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ পিআর বুঝে এবং পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায়। পিআর পদ্ধতিতে জনমত সংগ্রহে গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণভোটে জনগণ যদি পিআর না চায়, জামায়াতে ইসলামীও চাইবে না। কিন্তু জনগণ যদি চায় তাহলে পিআর দিতেই হবে।
জামায়াতে ইসলামী ক্রেডিট নেওয়ার রাজনীতি করে না দাবি করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, চব্বিশের ১ জুলাই ছাত্র যখন থেকে আন্দোলন শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী তখন থেকেই ছাত্রদের আন্দোলনে সার্বিক সহযোহিতা করেছে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের এবং দেশবাসীকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে। বড় দল দাবি করা একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব আন্দোলন চলাকালীন মিডিয়ার সামনে বলেছেন, এই আন্দোলন ছাত্রদের, এই আন্দোলনে তার দলের কেউ জড়িত নেই। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তারা দাবি করতে শুরু করেছে এই আন্দোলনের মাস্টার মাইন্ড তাদের নেতা। জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের কত হাজার নেতাকর্মী শহীদ কিংবা আহত হয়েছে সেটি আমরা আলাদা করতে চাই না। কারণ আমরা ক্রেডিটের রাজনীতি করি না, দেশ ও জাতির জন্য রাজনীতি করি। যারা গণঅভ্যুত্থান শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন সকলেই আমাদের জাতীয় সম্পদ, জাতীয় বীর। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিপর্যস্ত জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। সেজন্য যেখানে সমস্যা সেখানে ছুঁটে যায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা। জামায়াত কর্মী মানেই সমাজকর্মী। ৫ আগস্ট পরবর্তী ৩ দিন সরকার বিহীন রাষ্ট্রে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় জামায়াতে ইসলামী নিয়োজিত ছিল। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উপসনালয় এবং তাদের ঘরবাড়ি পাহারা দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরাসহ এদেশের হাজার-হাজার আলেম-উলামা। জাতির যেকোন প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামী ছিল, আছে এবং থাকবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ঢাকা -৬ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ঢাকা-৬ আসনে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদক কারবারের গডফাদারের হাতে জনগণের নেতৃত্ব বা জনপ্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব জনগণ দিবে না, দিতে পারে না। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে ঢাকা - ৬ সংসদীয় এলাকাকে একটি সুখি-সমৃদ্ধ, আধুনিক, নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও ন্যায় বিচারের নগরীতে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ড. মান্নান বলেন, জনগণ তাকে সুযোগ দিলে তিনি সকল শ্রেণি-পেশার অংশীজনদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা সুযোগ নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিই ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার অন্যতম সৌন্দর্য্য। ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, কোতয়ালীর একাংশ ও বংশালের একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৬ আসন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, একজন ফুটপাতের চা দোকানদার থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কেউ একটি পয়সাও চাঁদা দিতে হবে না। সন্ত্রাস-মাদকের নৈরাজ্য মুক্ত হবে। সকল ধর্মের, সকল দলের মানুষের শান্তির নগরী হবে ঢাকা-৬। এজন্য এই এলাকার নাগরিকদের সর্বপ্রথম ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ তাদের ভোটেই আগামীর আধুনিক নগর গড়ে উঠবে। ভোট যদি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, দখলদার, লুটেরা, মাদক কারবারিদের পক্ষে যায়, তবে এই নগরের মানুষ শান্তি কিংবা স্বস্তি খুঁজে পাবে না। ভোট দিতে হবে সৎ, যোগ্য, আদর্শ, আল্লাহভীরু, নৈতিক ব্যক্তি ও দলকে। শুধু ভোট দিয়ে চলে গেলেই হবে না, ভোট বাক্স পাহারা দিতে হবে। ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
ওয়ারী পূর্ব থানা আমীর মোতাছিম বিল্লাহ'র সভাপতিত্বে এবং থানা অফিস সেক্রেটারি মো. আব্দুল হান্নানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগরীর অফিস সেক্রেটারি ও ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক কামরুল আহসান হাসান, ওয়ারী দক্ষিণ থানা আমীর মাহফুজুল হক, ওয়ারী পূর্ব থানা সেক্রেটারি আব্দুল মুকিত রব্বানী, শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, শহীদ রফিকুল ইসলামের ছেলে আবু রায়হান, শহীদ জুনায়েদের বাবা জামাল হোসেনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও সমাবেশে থানা বায়তুলমাল সম্পাদক অধ্যাপক একে এম মুছা, বীর মুক্তিযোদ্ধা দীন মোহাম্মদসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এমএম