গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর রিপাবলিকানরা আশা করেছিল, যুদ্ধ বন্ধ হলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা ভালো ফল করবে। এর আগে জ্বালানির চড়া দাম নিয়ে দলের নেতারা হোয়াইট হাউসকে সতর্কও করেছিলেন।
এখন যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। একদিকে মার্কিন ভোটারদের বড় অংশই এই যুদ্ধের বিরোধী, অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের পুরোপুরি দূরেও সরিয়ে নিতে পারছেন না। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে এবং ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে।
রিপাবলিকানপন্থী নির্বাচনী সংগঠন ‘মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপ’-এর প্রধান সারা চেম্বারলিন বলেন, ‘ভোক্তাদের কাছে এখন প্রধান বিষয় হলো জীবনযাত্রার ব্যয়। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের এই মৌসুমে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আবার বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। এখন প্রার্থীদের চেষ্টা করতে হবে এই পরিস্থিতির পুরো দায় ইরানের ওপর চাপানোর।’
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকায় অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই অসন্তুষ্ট। গত জুন মাসে ফক্স নিউজ পরিচালিত এক জরিপে ৫৮ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এছাড়া ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতাই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি বাতিলের পর থেকে অধিকাংশ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তবে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে টমাস ম্যাসির মতো কোনো কোনো নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা করেছেন।
অন্যদিকে, বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এই ঘটনাকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা একে ট্রাম্পের ‘পছন্দের যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের জন্য একে দায়ী করছে।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ যখন ক্রমাগত বাড়ছে, তখন ট্রাম্পের বেপরোয়া ইরান যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। তিনি জীবনযাত্রার সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা আরও গভীর করেছেন।’
একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ অনুযায়ী কংগ্রেসের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি নতুন করে তুলছেন।
ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলার পর তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও সম্ভব, তবে তা হবে সময়ের অপচয়।
এর পাশাপাশি বুধবার তিনি ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের তীব্র হুমকি দেন। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এক দিনের মধ্যেই আমরা ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দিতে পারি। তাদের সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানা রয়েছে, প্রয়োজন হলে সেগুলোও ধ্বংস করব... এমনকি খার্গ দ্বীপও হয়তো আমরা দখল করে নেব!’
এমএম