বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, বর্তমানে দেশে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। স্বাধীনভাবে ইবাদত বন্দেগী করার সুযোগটুকু পাচ্ছে না। জনগনের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। এ অবস্থা থেকে জনগনকে উদ্ধারের জন্য নিদর্লীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন দেয়ার কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সরকারের জনপ্রিয়তা এখন তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। মানুষের মধ্যে ঘৃণার আগুন জ্বলছে। এজন্যই এই সরকার নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে সাহরী ও ইফতারের ফুডপ্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্যআমিনুল ইসলাম, মহানগরীর মজলিসে শুরা আবদুস সাত্তার সুমন, শাহীন আহমদ খান প্রমুখ।

নূরুল ইসলাম বুলবুল তার বক্তব্যে বলেন, রহমত, বরকত, নাজাতের মাস মাহে রমযান। তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর সন্তুষ্ঠির মাস, মাহে রমযান। কুরআন নাযিলের এই মাসে নিজেকে ঢেলে সাজানো, কুরআনের সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত ছিল এই মাসে ভর্তুকি দিয়ে হলেও দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রেখে খেটে খাওয়া রোজাদারদের ইবাদত করার পথ সহজ করে দেয়া। তিনি আরো বলেন, ১০ টাকা কেজি চাল, ঘরে ঘরে চাকরী ও বিনা পয়সায় সার দেয়ার কথা বলে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু সরকারের সেদিকে নজর নেই। বর্তমান সরকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে জনগনের দিকে নজর নেই। তারা বিশ্বাস করে জনগন স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

তিনি বলেন, তারা ব্যস্তনিজেদের আখের গোছাতে। তারা ব্যস্ত উন্নয়নের নামে বড় বড় প্রজেক্ট করে কানাডার বেগম পাড়ায় সম্পদ গড়তে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। স্বাধীনভাবে ইবাদত বন্দেগী করার সুযোগটুকু পাচ্ছে না। জনগনের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। এ অবস্থা থেকে জনগনকে উদ্ধারের জন্য নিদলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে গ্রহনযোগ্য নির্বাচনদেয়ার কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, সরকারের জনপ্রিয়তা এখন তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। মানুষের মধ্যে ঘৃণার আগুন জ্বলছে। এজন্যই সরকার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না। এই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে, দেশের স্বাধীনতা, র্সাবভৌমত্ব সংরক্ষণে, জনগনকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের সরকারকে বাধ্য করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার রোজার এই মাসে জিনিসপত্রে দাম কমানোর উদ্যাগ নিতে চায় না। কেননা ধর্মনিরপেক্ষ এই সরকার চায় না, মানুষ নির্বিঘ্নে ইবাদত বন্দেগী করুক।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমরা রাজপথে আন্দোলন করছি। পাশাপাশি যাদের সামর্থ নেই তাদের মধ্যে সাহরী ও ইফতার সামগ্রি বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি সামর্থবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর আহবান জানান।

মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, সরকার দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে পারেনি। কারন এর সাথে সরকার দলীয় লোকেরাই জড়িত। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সব সময় অসহায় দুঃস্থ মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। এতে কোন জাতি ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ করেনি। মানবতার এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, রোযা একটি সামাজিক ইবাদত। তাই প্রত্যেকে প্রত্যেকর প্রতি সহমর্মী হওয়া উচিত। তিনি বলেন, রমযানের মূল শিক্ষা হচ্ছে কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। তাহলেই কেবল আল্লাহ তায়ালা বরকতের দরজা খুলে দিবেন। কুরআনের আলোকে সোনার মানুষ তৈরি করে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

ড. এডভোকেট হেলাল উদ্দিন বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে মানুষ আজ দিশেহারা। চাল, ডাল, তেল মানুষের ক্রয় ক্ষমতার উর্ধ্বে উঠে গেছে। দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এমআর