রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্তৃক শিবির কর্মীদের নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে অধ্যাপক মুজিব বলেন, আওয়মী লীগের জঙ্গি ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির কর্মীদেরকে ধরার জন্য তাণ্ডব চালায় এবং বিভিন্ন রুমে রুমে গিয়ে ভাংচুর ও মারধর করে। এর মধ্যে ৫ জন শিক্ষার্থীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে।
অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার বিষয় হলো, এ সব জঙ্গিরা পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটায়। যারা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে ৫ জন নিরপরাধ ছাত্রকে আহত করলো সে সব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করে ওই ৩ জন নির্যাতিত ছাত্রকে পুলিশ গ্রেফতার করলো।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশকারা পেয়ে ছাত্রলীগ আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। এ ঘটনার দ্বারা প্রমাণিত হয়, পুলিশ দুষ্টের দমনের পরিবর্তে তাদের লালন করছে। ঐ ৩ জন ছাত্রের অভিভাবকের কাছে আওয়ামী লীগ সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং পুলিশ কী জবাব দিবে?
তিনি বলেন, শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এ জঙ্গি সংগঠনটি তাদের তা-ব চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তারা সাধারণ শিক্ষকদের উপরও হামলা চালাচ্ছে। তারা ২৬ আগস্ট কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে হামলা চালায় এবং একজন মহিলা কর্মকর্তাকে বেদম প্রহার করে। সিলেটে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এতে ৭ জন শিক্ষক আহত হন এবং তারা শিক্ষকদের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কটেজে ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তরা ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এক সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে বিরক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্তমানে ছাত্রলীগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা স্পষ্ট নয়।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞমহল প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু লাগাম টেনে ধরার পরিবর্তে লাগাম আরো ঢিলা করে দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ এখন ছাত্র সমাজ ও জনগণের কাছে ভয়ঙ্কর আতঙ্ক। আমি ছাত্রলীগের এ সব অপকর্মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সরকারের ভূমিকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
এআর





