গুম খুনের প্রতিবাদে সারাদেশে 'রেড এলার্ট' জারি করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন,আমি সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করছি।বিএনপি, শ্রমিকদল,মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সবাই একসাথে থাকবেন।কেউ যদি গুম অপহরণ করতে আসে তাদের ঘেরাও করে আটকে রাখবেন।তাদের হাত থেকে নিরীহ লোকদের ছিনিয়ে আনবেন। এরপর এদেরকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিবেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দলের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সবাই প্রস্তুত থাকবেন সময়মতো ডাক পড়লে হাজির হবেন।এবং এই ক্রীতদাস সরকারের হাত থেকে দেশকে বাচাঁতে হবে।আর কিভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে অধিকার আদায় করতে হয় তা শ্রমিকরাই আমাদেরকে শিখিয়েছে।
তিনি বলেন,এই সরকার রক্তচোষা খুনি,ড্রাকুলা সরকার।এরা দেশের জনগনের নিরাপত্তা দিতে পারে না।এর আগে এরা বলেছিল আমরাকি বেডরুম পাহারা দিব।এখনতো রাজপথও পাহারা দিতে পারে না। সম্প্রতি যেসব গুম অপহরণের ঘটনা ঘটেছে তাতো প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে রাস্তা থেকেই হয়েছে।এর জবাব সরকারকে দিতে হবে।এর দায় দায়িত্ব শেখ হাসিনাকেই নিতে হবে।কারণ তিনিই এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।এদের কাছে বিচার চেয়ে লাভ নাই। জনগনের নিরাপত্তার জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ সরকার মানুষকে কাজ দিতে পারেনা, ভাত দিতে পারেনা, নিরাপত্তা দিতে পারেনা,সবক্ষেত্রে অরাজকতা চলছে।এদের চুরির কারণে দেশি বিদেশী কেউ তাদের আজ বিশ্বাস করেনা।তাই দেশে কোনো বিনিয়োগ হয় না।শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে,শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছে না।একদিকে মানুষ নিরাপত্তার অভাবে ভূগছে, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে পড়ছে।দিনে দিনে বেকারত্বের পরিমান বাড়ছে।
খালেদা জিয়া বলেন,কোনো শ্রেণী পেশার মানুষ আজ নিরাপদ নয়। কারো জীবনের নিরাপত্তা নেই।আর অবৈধ সরকারের কাছে বিচার চেয়ে আর লাভ নেই।এত গুম খুন হচ্ছে এসবের কোনো বিচার হয় না।বাংলাদেশকে ক্রীতদাসের দেশে পরিণত করতে চক্রান্ত চলছে। এভাবে চলতে দেয়া যায় না।সবাইকে আন্দোলন করতে হবে।শুধু বিএনপিকেই আন্দোলন করলে চলবে না।সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।আমি নামতে চাইলে আ' লীগ আমাকে পুলিশ দিয়ে,বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে দেয়। তবুও দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে আমি মাঠে নামব।আপনারা প্রস্তুত থাকবেন।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন,তারা কিছু হলেই জঙ্গি,জঙ্গি বলে চিৎকার করে। নামাজ পড়লেই কি কেউ জঙ্গি হয়ে যায়। জঙ্গিদের সাথে আলীগেরই সম্পর্ক রয়েছে।খবরের কাগজে এসেছে ত্রিশালে যে জঙ্গিরা পালিয়েছে তাতে যুবলীগের হাত ছিল।আমরা এসব জঙ্গি টঙ্গিতে বিশ্বাস করি না।এই জঙ্গি সরকারকে আর ক্ষমতায় রাখা যায় না।
নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।কারণ উপজেলা নির্বাচনে আপনারা দেখেছেন। এদেরকে নির্বাচিত বলা যায় না। স্বাধীনতা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।বাংলাদেশ টিকে থাকবে।
ঢাকা,এমএইচ,১মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// জেএ





