বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. হান্নান শাহ বলেছেন, পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন মেয়ে শেখ হাসিনা। বাকশাল সরকারের অনেকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন। তাদের বাকশালের সেই ধারা এখনও আছে।

যারা একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাস করে তারা সংবাদপত্র দাবিয়ে রাখতে চায়। তারা জানে কোনো সময়ে তাদের কীর্তি ফাঁস হয়ে গেলে তাদের ফাঁসি হয়ে যেতে পারে। তাই তাদের টার্গেট গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল আয়োজিত সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

হান্নান শাহ বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে সরকার ২০ দলকে জঙ্গি বানানোর চেষ্টা করছে। মিথ্যাকে হাজার বার বলা হলে মানুষ তা বিশ্বাস করবে, এমন ধারণায় সরকার প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে।’

১৯৭৫ সালে বাকশাল সরকার আইন করে সংবাদপত্র বন্ধ করেছিল, আর বর্তমান ক্ষমতাসীনরা হুমকি-ধামকি দিয়ে সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ করছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতাসীনেরা আইন করে না হলেও পরোক্ষভাবে সংবাদপত্র বন্ধ করে জাতির বিবেককে দাবিয়ে রাখতে চায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, এতোদিন হয়ে গেল, সাগর-রুনির হত্যার বিচার হয়নি। বিচারতো দূরে থাক, হত্যাকারীরা আজও ধরা পড়েনি। এসব সম্ভব হয়েছে, হত্যাকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের সখ্য থাকায়।

প্রেসক্লাবের চলমান বিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে প্রেসক্লাবে দেওয়াল তুলে দিতে চান। সাংবাদিকদের ঐক্য ভেঙে দিতে চান। তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জাতীয় প্রেসক্লাবের জায়গা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দিয়ে গেছেন। এখন অনেকে তার নাম শুনতে পারেন না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তৎকালীন বাকশাল সরকার সমর্থিত চারটি পত্রিকা ছাড়া দেশের সবক’টি পত্রিকা প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেশের সচেতন মহল ও সংবাদপত্রের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মরত অসংখ্য সংবাদকর্মী চাকরি হারিয়েছিলেন। সেটা জাতীর জন্য কালো দিবস শুধু নয়, কলঙ্কও বটে। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে বাকশাল সরকারের সব ধরনের অগণতান্ত্রিক কালো ধারা বাতিল করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন।

হান্নান শাহ বলেন, ‘বর্তমান তথ্যমন্ত্রী (হাসানুল হক ইনু) দেশের সংবাদপত্রের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছেন। তিনি বাকস্বাধীনতা হরণের ফন্দি আটছেন আর নতুন নতুন হলুদ সাংবাদিক সৃষ্টি করছেন, যারা সরকারের মিথ্যাচার ও তোষামদির খবর ছাড়া সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ খবর প্রকাশ করতে চায় না।’

এর মধ্যেও যারা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করছেন, তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ বহুরুপী দল উল্ল্যেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘মুসলিম লীগকে দুই ভাগ করে আওয়ামী লীগ ও ভাসানী ন্যাপ করেছিলেন মুজিবুর রহমান। আর শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের উপর প্রথম আঘাত করেছেন।’

সংগঠনের সভাপতি এমএ হালিমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- ২০-দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীর প্রতীক, দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

এসএইচ