বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘২৪ হয়েছিল বলেই ২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। ২৪ না হলে ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তাদের রক্তের বিনিয়েই আমরা সরকারি ও বিরোধীদল হয়েছি। আমি অনুরোধ করবো এ সকল শহীদদের কেউ যেন খাটো করে না দেখেন।’
শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নারায়নগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকের দিকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ভিসি নিয়োগ, জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয় নেতা ও ক্যাডার নিয়োগ দিয়ে এক দলীয় শাসন কায়েম করছে। শেখ মুজিবুর রহমানও এক দলীয় শাসন কায়েম করেছিল। টিকতে পারেনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই ১৯৪৭, ৫২ ও ৭১-সহ বিভিন্ন সময় যারা বুক চিতিয়ে সংগ্রাম করেছেন, ২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন আমি ওই সকল শহীদ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিগত নির্বাচনে হাজারও জালিয়াতি, সন্ত্রাস ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরে আপনারা ১১ দলীয় জোটকে একটি আসন উপহার দিতে পেরেছিলেন। ভোটের মতো রেজাল্ট গণনা সুষ্ঠু হলে অন্য আসনেও জোটের বিজয় হতো।’
তিনি বলেন, অনেকের আমাদের ওপর অভিমান এ রায় কেন মেনে নিলেন। আমরা বলেছি, ১৭ বছর দেশ ছিল স্বৈরাচারের কবলে। মানুষ তো ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে সব জায়গায় একই আওয়াজ উঠেছিল, দাঁড়িপাল্লা। একই দিনে দু’টি ভোট হয়েছিল। আমাদের অবস্থান সুদৃঢ় ছিল। আমাদের মার্কা ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে। বর্তমান সরকার প্রথমে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ছিল না। তারা গোপনে ‘না’ এর পক্ষে ছিল। পরে জনরোষের মুখে রংপুরে আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে তিনি (তারেক রহমান) বলেছিলেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে। তিনি তো সংসদের নেতা। এই গণভোটে ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। তার মন্ত্রী বলেছে ভোটটা যাতে হয়ে যায় এজন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছে। এগুলো করলে জনগণের রাজনীতিবিদদের প্রতি সম্মান কিভাবে থাকবে?’
তিনি বলেন, যেহেতু প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’- এর পক্ষে ভোট দিয়েছে সকল সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। এখন সময় আছে ফিরে আসুন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করুন। নয়তো জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।
ডা. শফিক বলেন, সরকার গঠনের আগে ও পরে আপনারা চাঁদাবাজদের হাত আটকাতে পারেননি। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করেননি, বরং তার মিটার আগের থেকে বেড়ে গেছে। কিছু দলকানা মানুষ ও গোষ্ঠীর হয়ত ভাগ্য পরিবর্তন হবে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।
জামায়াত আমির বলেন, এ নারায়ণগঞ্জ এক সময় প্রাচ্যের ডান্ডি ছিল। নারায়ণগঞ্জ তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। এক সময় এটা সন্ত্রাসের নগরী হিসেবে পরিণত হয়েছিল। ত্বকী আপনাদের সন্তান, তার হত্যার বিচার কী পেয়েছেন? একজন নেতা ছিল, বলতো খেলা হবে। এখন কোথায় খেলছে? অহংকার ভালো নয়। নতুন কোন গডফাদার এখানে তৈরি হোক আমরা চাই না।
তিনি বলেন, আমি এখানে আসার আগে ব্যাবসায়ী বন্ধুদের সাথে বসলাম। কী যেন আতঙ্ক তাদের তাড়া করছে। তারা কথা বলতে পারছে না। একজন বলেই ফেললেন আমরা ভালো নেই। চাঁদাবাজরা আমাদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। দলের নেতা বলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। আর ঘরে ঘরে চাঁদাবাজদের পৌঁছে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই না আমাদের প্রিয় নারায়ণগঞ্জ অশান্তি ও চাঁদাবাজদের কবলে পড়ে থাকুক। ড্রেনের পানি দিয়ে যেমন অজু হবে না, তেমনি ভালো মানুষ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হবে না। ভালো মানুষ ছাড়া কী এ নগর গড়া যাবে? এমন মানুষ লাগবে যে আল্লাহকে ভয় করে। এমন মানুষ ছাড়া কী আমরা নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ গড়তে পারবো? আমরা সৎ নেতৃত্ব কায়েম করবো জনগণকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে। আমাদের দাবি সকল অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দ্রুত নির্বাচন দেয়া হোক। নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দিয়ে অনতিবিলম্বে নির্বাচন দেয়া হোক। আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এখানে প্রার্থী দিবে। আমি আপনাদের নেতা আব্দুল জব্বারকে এখানে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করছি। ২৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা জনগণের সেবা করতে পারে এমন প্রার্থী আমরা উপহার দিবো।
এস