নেতৃবৃন্দকে হত্যার ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে মোকাবেলার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির।

জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ৭২ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে শিবির নেতারা বলেন, রাজধানীর ৩২টি স্পটসহ সারাদেশে সমাবেশ ও অবরোধ করে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা।

এসব কর্মসূচিতে সরকারের পেটুয়া বাহিনী, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের 'সন্ত্রাসীরা' হামলা করে কয়েকজনকে আহত করেছে।

মিছিল ও অবরোধকালে শিবির নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ আদর্শীক ভাবে পরাজিত হয়ে আইন আদালতকে ব্যবহার করে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে দলীয় ট্রাইবুনালকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ট্রাইবুনাল সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে সরকার পক্ষের মুরগী চোর, গরু চোর, নারী নির্যাতন মামলার আসামীদের মিথ্যা সাক্ষীকে পুঁজি আর নেতৃবৃন্দের পক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষীদের সাক্ষকে অগ্রাহ্য করে সাজানো রায় দিয়ে যাচ্ছে। তাতেও জিজ্ঞাংসা না মিটায় এখন রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া শুরু করেছে। যা ট্রাইবুনালের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।

শিবির নেতারা বলেন, নিজামী কোন নাম সর্বস্ব দলের নেতা নন। তিনি বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা। তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার পরিনাম হবে ভয়াবহ। নাটক সাজিয়ে হত্যা করে জামায়াতকে নেতৃত্ব শূন্য করার ষড়যন্ত্র বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না। কঠোর ভাবে এ ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করা হবে।

ঢাকা মহানগরী পূর্ব: সভাপতি রেজাউল হক রিয়াজের নেতৃত্বে রাজধানী খিলগাঁও এলাকায় মিছিল অবরোধ করে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শাখা সেক্রেটারি এম শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তাছাড়া চকবাজার, মুগদা, সবুজবাগসহ আরও ৮ স্থানে মিছিল অবরোধ করে শাখার নেতাকর্মীরা। এসব কর্মসূচি পালন কালে পুলিশ ৬ জনকে আহত ও ২ জনকে গ্রেপ্তার করে।

ঢাকা মহানগরী পশ্চিম: রাজধানীর ৭টি স্পটে মিছিল অবরোধ করেছে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পশ্চিম শাখা। শাখা সভাপতি তামিম হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল মিরপুর ১০ নাম্বার এলাকায় অবরোধ করে। এসময় শাখা সেক্রেটারী মুজাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে পুলিশের হামলায় ৪ জনকে আহত ও ২ জনকে গ্রেফতার করে।

ঢাকা মহানগরী উত্তর: সকাল ১১ টায় রাজধানীর উত্তরার দক্ষিনখান এলাকা থেকে ছাত্রশিবির উত্তরের সেক্রেটারী তারিক হাসানের নেতৃত্বে মিছিলটি শুরু হয়ে উত্তরা জসিমউদ্দিন এলাকায় গিয়ে অবরোধ করে। এসময় পুলিশ হামলা চালিয়ে ১০ জনকে আহত ও ৫ জনকে গ্রেফতার করে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: সকাল সাড়ে ১০টায় শাখা সভাপতি খালেদ মাহমুদের নেতৃত্বে একটি মিছিল বাবু বাজার থেকে শুরু বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সড়ক অবরোধ করে। এতে শাখা সেক্রেটারী দাইয়্যান সালেহিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা কলেজ: রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখা মিছিল অবরোধ করে। শাখা সভাপতি নাজিম উদ্দিন এতে নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়াও  আরো ৩টি স্পটে পিকেটিং করে ঢাকা কলেজের নেতাকর্মীরা।

কুমিল্লা মহানগরী: নগরীর, চকবাজার, কান্দিরপার, টমচমব্রিজ, শাসনগাছা, পুদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, কোটবাড়িতে মিছিল ও অবরোধ করে ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী। এতে নেতৃত্বদেন শাখা সভাপতি শাহ আলম ও সেক্রেটারী কামাল হোসেনসহ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। 

নারায়ানগঞ্জ মহানগরী: ঢাকা-নারায়ানগঞ্জ রোড ও ঢাকা মুন্সীগঞ্জ রোডের বিসিক এলাকায় অবরোধ করে করা হয়। এসময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল মহানগরী: রাজপথ অবরোধ করে ছাত্রশিবির বরিশাল মহানগরী শাখা। সকাল থেকেই লাকুটিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্বদেন শাখা সভাপতি কামরুল হাসান। এসময় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়পুরহাট জেলা: পাঁচটি স্থানে ছাত্রশিবির জয়পুরহাট জেলা শাখার সেক্রেটারী আবু হানিফের নেতৃতে রাজপথ অবরোধ করে নেতাকর্মীরা।

জেএ