ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেকে) অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের দেখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘মালিকের গাফিলতির কারণেই কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তাই মালিকপক্ষই ক্ষতিপূরণ দেবে। এই ক্ষতিপূরণ আদায়ে কাজ করবে সরকার। রাষ্ট্র দগ্ধদের চিকিৎসা দিচ্ছে।’

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কেরানীগঞ্জের অগ্নিদগ্ধদের অবস্থা পরিদর্শনের পর তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দগ্ধদের সবার অবস্থাই খু্ব ক্রিটিক্যাল। দুয়েকজন ছাড়া সবারই ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। ইতোমধ্যে ঢামেকের বার্ন ইউনিট থেকে পাঁচ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। দরকার হলে আরও রোগী সেখানে স্থানান্তর করা হবে।’

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ‘আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ইনজুরি এটা। বদ্ধ ঘরের ভেতরে ছিল আগুনটা। যেহেতু প্লাস্টিকের কারখানা, মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে।’

কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য ১২ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালামকে বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে তারা বৈঠক করবেন।

উল্লেখ্য, বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকালে ওই প্লাস্টিক কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলে এক জন নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় অন্তত ৩৭ জন দগ্ধ হন। এদের মধ্যে ৩১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। পরে আরও ১০ জন নিহত হন।

এমএম