বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সরকার নিজেদের জন্য মৃত্যুকুপ তৈরি করছে।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বিচারপতি অপসারণ প্রক্রিয়া এবং বিচার বিভাগ’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ডেমোক্রিটিক মুভমেন্ট।

গয়েশ্বর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এতে বিচার বিভাগ স্বাধীনতা খর্ব হবে। বিচারপতিরা স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবে না। জনগণের শেষ আশ্রয় স্থল টুকু শেষ হয়ে যাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সরকার ৯৬ ধারায় বিচার বিভাগকে সংসদের আয়ত্তে নেয়ার আইন করতে যাচ্ছে। এই সংসদের কোনো বৈধতা নেই। এর মাধ্যমে তারা (সরকার) বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা হাতে নেওয়ার ষড়যন্ত করছে।

তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানিক রুপ দিলেও আওয়ামী লীগ বারবার বাধা দিয়েছে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানিক রুপ দিতে হলে বিচার বিভাগ ও সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা দিতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ বারবার বিচার বিভাগ ও সংবাদ পত্রের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে গয়েশ্বর বলেন, এখন আপনাদের আশি ভাগ পছন্দের বিচারপতি আছে আদালতে। আপনারা চির কাল ক্ষমতায় থাকবেন না। যখন অন্য সরকার ক্ষমতায় আসবে তখন পাচ মিনিটে এই বিচারপতিদের অপসারণ করলে আপনাদের অবস্থা কি হবে?

গয়েশ্বর বলেন, সংসদ বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা হাতে নিলে আওয়ামী সন্ত্রসীদের আর বাধা থাকে না।

বিচারপতিদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা চুপ কেন? আপনারা এই পেশার মাধ্যমে রুটি রুজির ব্যবস্থা করেন। আদালত প্রাঙ্গন এখন উত্তাপ্ত হয়নি কেন? এখন আপনারা অদৃশ্য টেলিফোনে রায় দিতে বাধ্য হলেও এই আইন পাশ করলে আইনজীবীদের কথা আর শুনতে পারবেন না।

সংগঠনের উপদেষ্টা শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, স্বাধীনতা ফেরামের সভাপতি আবু নাসের রহমাতুল্লা প্রমুখ।

ঢাকা, ২১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই